February 23, 2026
রাজ্য

রাজনীতির চাণক্যের অবসান, প্রয়াত মুকুল রায়

বর্ষীয়ান রাজনীতিক Mukul Roy আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। গভীর রাতে সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ছেলে শুভ্রাংশু রায় বাবার মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘ দিন ধরেই কিডনি-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হত। গত কয়েক মাস ধরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে গেলেন এক সময়ের ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’।

মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসপাতাল ও তাঁর কাঁচরাপাড়ার বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূল নেতা-কর্মী ও অনুরাগীরা। জানা গিয়েছে, হাসপাতাল থেকে মরদেহ প্রথমে বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ ও জনপ্রতিনিধিরা। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসের হাত ধরে। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম হয়ে ওঠেন। একসময় Mamata Banerjee-র পরেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দল গঠন ও বিস্তারে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জাহাজ ও রেল দপ্তরের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। রাজ্যসভাতেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

পরবর্তীকালে দলীয় মনোমালিন্যের জেরে তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে এলেও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। ফলে দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। Calcutta High Court বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও Supreme Court of India মানবিক দিক বিবেচনা করে সেই নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। তাঁকে সরকারি হিসাব নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee শোকজ্ঞাপন করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘মুকুল রায়ের মৃত্যু বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগের অবসান। সংগঠন তৈরি ও বিস্তারে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি মুকুল রায়ের পরিবার, বন্ধু ও অনুগামীদের প্রতি সমবেদনা জানান।

শাসক ও বিরোধী ভেদাভেদ ভুলে বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শোকবার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই নেতার বিদায়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় শূন্যতা তৈরি হল বলে মত বিশ্লেষকদের।

Related posts

Leave a Comment