25 C
Kolkata
March 25, 2026
দেশ

কর্ণাটকের রেল বাজেট রেকর্ড ছুঁয়েছে ৭,৭৪৮ কোটি টাকা, ভ্রান্ত তথ্য বিশ্বাস করবেন না: অশ্বিনী বৈষ্ণব

বেঙ্গালুরু, ৭ ফেব্রুয়ারি — কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শনিবার জানিয়েছেন, চলতি কেন্দ্রীয় বাজেটে কর্ণাটকের জন্য রেল প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে রেকর্ড ৭,৭৪৮ কোটি টাকা, যা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বেশি। তিনি কর্ণাটকের মানুষকে কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে ছড়ানো ভ্রান্ত তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।

বেঙ্গালুরুতে বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, কর্ণাটকে রেল পরিকাঠামো খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ এখন পৌঁছেছে ৫২,৯৫০ কোটি টাকায়। এই বিপুল বিনিয়োগের আওতায় রয়েছে নতুন রেললাইন নির্মাণ, রেলস্টেশন পুনর্গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন, বেঙ্গালুরু সাবার্বান রেল প্রকল্প এবং একাধিক নতুন প্রকল্প।

তিনি জানান, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে কর্ণাটকের ৬১টি রেলস্টেশন সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৯টি স্টেশনের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগ হয়েছে ২,১১০ কোটি টাকা।

রেলমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কর্ণাটকে ১২ জোড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে এবং খুব শীঘ্রই বেঙ্গালুরু থেকে মঙ্গলুরু পর্যন্ত একটি নতুন বন্দে ভারত পরিষেবা চালু করা হবে।

তিনি আরও জানান, হাসান–মঙ্গলুরু ঘাট সেকশন এবং হাসান–বেঙ্গালুরু রুটে বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং বর্তমানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সার্টিফিকেশনের প্রক্রিয়া চলছে। বৈদ্যুতিকীকরণের পর একাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি। এই রেল পরিষেবার মাধ্যমে কর্ণাটকের পুরো উপকূলীয় অঞ্চল সংযুক্ত হবে।

অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, রুটের দৈর্ঘ্যের কারণে উপকূলীয় সেকশনে দুটি ট্রেন চালানো হবে—একটি উপকূল থেকে বেঙ্গালুরুর দিকে এবং অন্যটি বেঙ্গালুরু থেকে উপকূলের দিকে। এই পরিষেবা মঙ্গলুরু, হাসান ও বেঙ্গালুরুকে সংযুক্ত করবে এবং রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনবে।

তিনি জানান, দক্ষিণ কর্ণাটক ইতিমধ্যেই কোয়েম্বাটুর ও কেরালার এরণাকুলামের সঙ্গে রেল যোগাযোগে যুক্ত রয়েছে এবং উপকূলীয় ও উত্তর কর্ণাটকেও শীঘ্রই ব্যাপক রেল সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। আরও নতুন ঘোষণা আসবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে রেলমন্ত্রী বলেন, খুব শীঘ্রই কর্ণাটকের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে রেল পরিষেবা পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং এই প্রতিশ্রুতিও পূরণ হবে।

অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, বেঙ্গালুরু থেকে দুটি বড় বুলেট ট্রেন প্রকল্প শুরু হবে—বেঙ্গালুরু–চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরু–হায়দরাবাদ। তিনি বলেন, মুম্বই–আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পটি প্রথমে নেওয়া হয়েছিল কারণ এটি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল এবং ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলাচলের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেছেন, যার ফলেই দ্বিতীয় পর্যায়ে সাতটি বুলেট ট্রেন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বেঙ্গালুরু–চেন্নাই বুলেট ট্রেনে যাত্রার সময় হবে মাত্র ৭৩ মিনিট এবং হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু যাত্রা শেষ হবে দুই ঘণ্টায়। এই প্রকল্পগুলিকে দক্ষিণ ভারতের একটি হাই-স্পিড ডায়মন্ড হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বেঙ্গালুরু সাবার্বান রেল প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, করিডর টু ও ফোরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। রেল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (কর্ণাটক) লিমিটেডে একজন রেল আধিকারিককে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ করায় কাজের গতি বেড়েছে বলে তিনি জানান। চারটি করিডরের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে, দরপত্র প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনও মিলেছে। প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি অংশ এলিভেটেড হবে।

তিনি বলেন, বানসওয়াড়ি, হেব্বল, হুসকুর, বেলান্দুর ও ইয়েশ্বন্তপুর স্টেশনগুলির কাজ এগিয়ে চলেছে এবং করিডর টু-এর জন্য একটি আলাদা কাস্টিং ইয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে।

রেলমন্ত্রী আরও জানান, খুব শীঘ্রই বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ের মধ্যে একটি প্রিমিয়াম ট্রেন পরিষেবা চালু করা হবে।

কর্ণাটক সরকারের কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কেউ কেউ এটিকে শুধুমাত্র ‘কর্পোরেশন বাজেট’ বলে দেখছেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাজেট উৎপাদন, সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার বাইরে উঠে এসেছে, যা একটি বড় পরিবর্তন।

তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০৪৭ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন এবং কর্ণাটক এই বাজেটের অন্যতম বড় উপভোক্তা। বেঙ্গালুরুতে একটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা তাদের প্রকল্প স্থাপন করছে, যেখানে ৪০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং আরও বহু বিনিয়োগ আসছে বলে জানান তিনি।

অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি সমবায় ফেডারেলিজমে বিশ্বাসী এবং রাজ্যগুলিই কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রকৃত উপভোক্তা। সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সবার লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদরা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন।

Related posts

Leave a Comment