নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ – ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে সম্মতি জানিয়েছেন।এই উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ অনেকের আশঙ্কা এই বোর্ড ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।এর আগে নেতানিয়াহুর দপ্তর বোর্ডের গঠন ও সদস্যদের নিয়ে আপত্তি তুলেছিল, বিশেষ করে গাজা পুনর্গঠন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে।এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রথমে এটি গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা তদারকির জন্য গঠিত হলেও, পরে এর পরিসর বাড়ানো হয় এবং একাধিক দেশকে এতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, ট্রাম্প এই বোর্ডকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও সক্রিয় করতে চাইছেন এবং ধীরে ধীরে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।বর্তমানে ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সেই ভাষণেই তিনি গাজা বোর্ড অব পিস নিয়ে নিজের বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারেন বলে ধারণা।নেতানিয়াহুর অবস্থান বদল ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, কারণ তাঁর জোটসঙ্গীদের একটি বড় অংশ মনে করে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব শুধুমাত্র ইসরায়েলের হওয়া উচিত।এদিকে নরওয়ে, সুইডেন ও ফ্রান্স এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে।ফ্রান্সের মতে, এই বোর্ড ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করতে পারে।
অন্যদিকে আজারবাইজান ও কসোভো বোর্ডে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে।সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আর্মেনিয়া, মরক্কো, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, আর্জেন্টিনা, বাহরাইন ও মিশরসহ একাধিক দেশ এই উদ্যোগে অংশ নিতে রাজি হয়েছে।ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, কানাডা, রাশিয়া, ইউক্রেন, চিন, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী শাখাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
