বাংলাদেশে ক্রমাবনত নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সে দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশন ও অন্যান্য মিশনের কর্মকর্তাদের নির্ভরশীল সদস্যদের ভারতে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে ভারত। তবে এই সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশন ও সহকারী হাই কমিশনগুলি সম্পূর্ণভাবে চালু থাকবে এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
পরামর্শ অনুযায়ী, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশে কর্মরত সব ভারতীয় কূটনীতিকের পরিবারকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, এটি সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন সে দেশে অশান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত মাসে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং ময়মনসিংহ জেলায় কারখানা শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দু’বার তলব করেছিল বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। ওই বৈঠকগুলিতে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অশান্তি নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ জানানো হয় এবং ঢাকায় ভারতীয় মিশনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা নিয়ে কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
ভারত বারবার উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির ছড়ানো বিভ্রান্তিকর ও ভ্রান্ত তথ্যের নিন্দা করেছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, এই ঘটনাগুলি নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কোনও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি কিংবা ভারতের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ ভাগ করে নেয়নি, যা দুর্ভাগ্যজনক।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ২০২৫ সালে মোট ৬৪৫টি ঘটনা ঘটেছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।
