27 C
Kolkata
March 22, 2026
দেশ

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার: মোদির উদ্যোগ ও সামনের পথ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (UNGA) এ বছর নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সংস্কারই মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এর পেছনে গ্লোবাল সাউথের নিরলস প্রচেষ্টা যেমন রয়েছে, তেমনি কেন্দ্রস্থলে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক ব্রিফিংয়ে বলেন—
“নিরাপত্তা পরিষদের গঠন আজকের বিশ্বের প্রতিফলন নয়, বরং ১৯৪৫ সালের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এর ফলে বৈধতার পাশাপাশি কার্যকারিতারও সমস্যা তৈরি হয়েছে।”এই বক্তব্য মোদির গত বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণের সাথেই মিলে যায়। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সামিট অফ দ্য ফিউচার-এ মোদি বলেছিলেন—
“মানবতার সাফল্য যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, আমাদের সম্মিলিত শক্তিতে। বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অপরিহার্য। সংস্কারই হলো প্রাসঙ্গিকতার চাবিকাঠি।”

‘প্যাক্ট অফ দ্য ফিউচার’ ও সংস্কারের ধারা

২০২৪ সালের শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত প্যাক্ট অফ দ্য ফিউচার বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পদক্ষেপ, ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেয়।

  • এতে প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়, যেখানে বিস্তৃত ও প্রতিনিধিত্বশীল সদস্যপদ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • ২০২৭ ও ২০২৮ সালে পর্যালোচনা করার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • আফ্রিকার ঐতিহাসিক অবিচার দূরীকরণ, প্রযুক্তিগত বৈষম্য হ্রাস, এবং বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

মোদি এই অন্তর্ভুক্তিকে “একটি ভালো সূচনা” বলে উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে টেক্সট-ভিত্তিক আলোচনার পক্ষে সওয়াল করেছেন। ভারতের অবস্থান ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের দাবি করে আসছে। মোদি এই দাবিকে বৃহত্তর বৈশ্বিক সমতা ও কার্যকারিতার প্রয়োজনীয়তার অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।

  • এশিয়ার ৬০% জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও মাত্র একটি স্থায়ী সদস্য—চীন।
  • বিশ্বের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি (জার্মানি, ভারত, জাপান) কোনো স্থায়ী আসন পায়নি।
  • আফ্রিকার ২৫% সদস্যদেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী সদস্য নেই, অথচ নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় ৬০% প্রস্তাব আফ্রিকাকে ঘিরেই।

সামনের পথসংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে। এখন নজর রয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের দিকে, যেখানে এর অগ্রগতি কতদূর হয় তা স্পষ্ট হবে।

৭৫ বছর বয়সও মোদির কূটনৈতিক লড়াই চলছে—প্রতিশ্রুতির বোঝা কাঁধে নিয়ে তাঁকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

Related posts

Leave a Comment