ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর শনিবার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি প্রচলিত ধারা থেকে ভিন্ন এবং এতটা প্রকাশ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগে পরিচালনা করেননি। দ্য ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরাম ২০২৫-এ তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাইনি, যিনি বর্তমান প্রেসিডেন্টের মতো এত প্রকাশ্যে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করেছেন।
এটি কেবল ভারতের ক্ষেত্রেই নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই একটি বড় পরিবর্তন।” জয়শঙ্কর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভারতীয় তেল আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের সমালোচনা করে বলেন, “প্রো-বিজনেস প্রশাসনের লোকেরা যদি অন্যদের ব্যবসা করার জন্য অভিযুক্ত করেন, তা মজার বিষয়। যদি ভারতের কাছ থেকে তেল বা রিফাইনড প্রোডাক্ট কেনায় আপনার সমস্যা থাকে, তবে কিনবেন না।
কেউ তো জোর করছে না। ইউরোপ কেনে, আমেরিকাও কেনে। না পছন্দ হলে কিনবেন না।” তিনি আরও জানান, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের স্বার্থে ভারত কিছু সীমারেখা টেনেছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ান তেল আমদানির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে বলেন, “১৯৭০-এর দশক থেকে একটি জাতীয় ঐকমত্য আছে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ভারত মেনে নেবে না।” তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং পাকিস্তান ইস্যুতে মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান—এই নীতিগুলোতে সরকার অটল থাকবে। “যদি কেউ আমাদের সঙ্গে দ্বিমত করেন, তাহলে ভারতের জনগণকে গিয়ে বলুন যে আপনারা কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করতে চান না।
জনগণকে বলুন যে আপনারা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে মূল্য দেন না। আমরা দিই। আর সেটা রক্ষায় যা করার দরকার হবে, তাই করব।” তার এই বক্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন ভারত-মার্কিন সম্পর্ক ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি দাবি ও ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।
previous post
