ভারতের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লালকেল্লায় প্রতি বছরই দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থাকেন। কিন্তু এ বছর কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা—দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও সাংসদ রাহুল গান্ধী—এই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শাসক দল বিজেপি এ বিষয়ে কটাক্ষ করে বলেছে, কংগ্রেস নেতাদের এই আচরণ দেশপ্রেমের অভাব এবং প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের প্রতি নরম মনোভাবের প্রমাণ। বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে, “এরা আসলে পাকিস্তানের প্রেমিক, তাই দেশের গৌরবময় দিনটিতে লালকেল্লায় উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি।”
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে দলের ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, খাড়গের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা এবং রাহুলের অন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে তারা উপস্থিত থাকতে পারেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠান বর্জন করা বিরোধীদের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ঝুঁকি হতে পারে, বিশেষ করে যখন জাতীয়তাবাদী ইস্যুতে বিজেপি তাদের তীব্রভাবে আক্রমণ করছে।
এদিকে, বিজেপি এই সুযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করেছে, যা আগামী নির্বাচনী প্রচারণায়ও ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত দিল্লির লালকেল্লায় ১৫ আগস্টের স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিক উদযাপনে কংগ্রেসের শীর্ষ দুই নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি তীব্র সমালোচনা চালিয়ে কটাক্ষ করেছে যে, তাঁরা “পাকিস্তানের প্রেমে মজে আছেন”।
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ভাষণ দেন, যেখানে বিভিন্ন দল ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে এবং দলের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল অনুষ্ঠানে দেখা দেননি।
বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানকে তাঁরা উপেক্ষা করেছেন এবং এটি তাঁদের দেশপ্রেমের প্রশ্নে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়। বিজেপির ভাষায়, “ভারতের স্বাধীনতার দিনে যাঁরা অনুপস্থিত, তাঁরা আসলে পাকিস্তানপ্রেমী।”
অন্যদিকে কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, খাড়গে শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি এবং রাহুল গান্ধীর অনুপস্থিতির কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
previous post
next post
