উত্তরপ্রদেশ জল ও পরিবেশ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নমামি গঙ্গে কর্মসূচি এবং এম. জি. এন. আর. ই. জি. এ-র আওতায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা রাজ্যের শুকনো এবং বিপন্ন নদীগুলিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
বুধবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত 3,363 কিলোমিটার বিস্তৃত 50টি নদীকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে, যা গ্রামগুলিকে নতুন শক্তি এবং কৃষকদের জন্য আরও ভাল সেচের বিকল্প সরবরাহ করে।
একটি নিবেদিত জল সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসাবে, উত্তরপ্রদেশ সরকার 1,011টি গঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট নদী ও স্রোতগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। এই জলাশয়গুলি কেবল পরিষ্কারই করা হয়নি, তাদের প্রাকৃতিক প্রবাহেও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যার ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় কৃষকদের জন্য জলের ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে।
উপরন্তু, এমজিএনআরইজিএ-র আওতায় নদী পরিষ্কার, গভীরকরণ, বাঁধ নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ, স্রোত পুনরুদ্ধার এবং জলবিভাজিকা উন্নয়নের জন্য আরও 86টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জলের উৎসগুলি রক্ষা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে, যোগী সরকার 894টি স্থানে, বিশেষ করে নদীর তীরে নিবিড় বৃক্ষরোপণ করেছে। এই গাছগুলি বাঁধগুলিকে শক্তিশালী করতে এবং মাটির ক্ষয় রোধ করতে সহায়তা করে। সময়ের সাথে সাথে, এই উদ্যোগটি সবুজায়নকে বাড়িয়ে তুলবে এবং জীববৈচিত্র্যকে সমর্থন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্যটি 3,388টি পুকুর নির্মাণ ও শক্তিশালী করেছে, যার ফলে গ্রামাঞ্চলে জল সংরক্ষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পুকুরগুলি কৃষিকাজ, গবাদি পশু এবং পানীয় জলের জন্য অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে, যা গ্রামের জীবনরেখা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নদীগুলির পুনরুজ্জীবন কেবল পরিবেশের উন্নতিই করেনি, এই জলাশয়ের কাছাকাছি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্থানগুলির গুরুত্বও পুনরুদ্ধার করেছে। মানুষ এখন জল সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন এবং স্থানীয় প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই উদ্যোগ উত্তরপ্রদেশে জলের ঘাটতি দূর করতে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি কার্যকর কৌশল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।
