সংবাদ কলকাতা: পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী হিন্দু রিপাবলিক অফ বেঙ্গল এর স্বঘোষিত অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট নৃপেন্দ্র কৃষ্ণ রায় গতকাল রাত থেকেই অর্থাৎ ১৭ই নভেম্বরের কাক ভোর থেকে শিলচর ভুবন পাহাড়ের পাদদেশে শুরু করেন তার ধরনা কর্মসূচি তার সঙ্গে ছিলেন আমরা বাঙালির আসাম প্রদেশের কর্মধার শ্রীযুক্ত সাধন পুরোকায়স্থ এবং শিলচর ভুবন পাহাড় কমিটির কর্মকর্তাগণ — শ্রী শংকর ভূষণ দে ও শ্রীবিভাস চক্রবর্তী।
এই ধরনা যে সে ধরনা নয় এটা হল বাঁশির ধর্না। পেশায় কলকাতা হাইকোর্টের উকিল হলেও নৃপেন বাবু একজন বাঁশি বাদক। তবে উনি নাকি মানুষের জন্য বাঁশি বাজান না। তার বাঁশির ডাকে মেঘ সাড়া দেয়। শুধু তাই নয়, এই উকিলবাবুর দাবি, তার বাঁশিতে নাকি সাইক্লোন চলে আসে। তার এক অকাট্য দাবি গত 2021 সালে শিলচরে বসে তার বাঁশি বাজাবার জন্যই সমস্ত সাইক্লোন নাকি বাংলাদেশে ঢুকছে।
সত্যই তো! কি এক আশ্চর্যজনক ঘটনl সেই আইলা থেকে শুরু করে আমফান হুদহুদ ফোনি বুলবুল ইয়াস পরপর বারোটা সাইক্লোনের সবকটা কলকাতামুখী ছিল কিন্তু ২০২১ এর দশমীতে বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার প্রতিবাদে সেই যে তিনি শিলচরে বাঁশি বাজিয়ে গিয়েছেন তারপর থেকে চার চারখানা সাইক্লোন বাংলাদেশে ঢুকেছে –পর পর শীত্রাং, মোকা হামুন, আর এইবার মিধীল ২০২১ এর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ এ সাইক্লোন ঢুকবে আসামে বন্যা হবে কাকতালিয় হলেও তাই হচ্ছে বাংলাদেশের জিহাদ আর আসামের জেল আসামে হতদরিদ্র অসহায় বাঙালি জেলবন্দী। ভন্ড বিজেপি সরকার স্বাধীনতায় সর্বস্ব বিসর্জন দেওয়া বাঙালিকে নাগরিকত্ব দেওয়ার নাম করে জেলে বন্দি করছে!!! এর চেয়ে বড় অন্যায় আর কি হতে পারে? আর বাঙালি হিসেবে,? কেন , কেন বুক কাঁপে না আপামর বাঙালির?
নৃপেন বাবুর কাছে এটা একটা বড় লজ্জার আর বাঙালি বুদ্ধিজীবী নেতা অভিনেতারা এই সমস্ত প্রান্তিক বাঙালির কোন খোঁজ রাখেনা যাদের পয়সায় যাদের বদান্যতায় এই সমস্ত নেতা অভিনেতারা উড়ে বেড়াচ্ছে সেই বাঙালিরা আজ সারা ভারতে খুব কষ্টে আছে আজ সমগ্র উত্তর পূর্বের বাঙালিরা একটু অন্য ধরনের লড়াকু – বাশিওয়ালা উকিলের কাছ থেকে একটু হলেও অন্ধকার সুরঙ্গের ভিতর থেকে ক্ষীন আলো পাচ্ছে বাঁশি ছাড়াও উকিল বাবুর আরেকটা অস্ত্র হলো কলম উনি প্রদ্যতকে নোটিশ পাঠিয়েছেন বাঙালি বিরোধী কথাবার্তা এবং নেতাজি ও ক্ষুদিরামের অবমাননার জন্য মেঘালয়ের খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বাঙালির পুজো নিয়ে হেনস্থা করার জন্য মেঘালয় সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডে যেখানে যেখানে বাঙালি উদ্বাস্তুদের হেনস্থা করা হচ্ছে, সেখানে তিনি বাড়িয়ে দিয়েছেন কলমের ধারালো অস্ত্র। উনার কথায় তার এক হাতে বাঁশ (কলম) অন্য হাতে বাঁশি।
উনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেছেন যার মাটি হল আজকের বাংলাদেশ। আইনি লড়াই এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারত সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করে বাঙালির জন্য, সেই বাঙালির জন্য, যারা দেশভাগ চায়নি, ইজরায়েলের মত এক টুকরো মাটি,— তার হারানো দেশ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার আজকের এই ধরনার মূল দাবি গুলো এই ব্যানার থেকে স্পষ্ট।
previous post
