31 C
Kolkata
March 23, 2026
রাজ্য

কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত এক বাঙালী পরিচালকের শর্ট ফিল্ম

সুভাষ পাল, সংবাদ কলকাতা: কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হতে চলেছে বাঙালি যুবক যুধাজিত বসুর শর্ট ফিল্ম। মারাঠি ভাষায় নির্মিত ২৩ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটির নাম ‘নেহেমিচ’। যুধাজিতই একমাত্র বাঙালি, যাঁর স্বল্প দৈর্ঘ্যের সিনেমা কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চলে গাওকর প্রথা নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। যেখানে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ঋতুস্রাব নিয়ে প্রচলিত একটি প্রাচীন কুপ্রথার অত্যাচারের শিকার হতে হয় মহিলাদের। আগামী ২৪ মে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি দেখানো হবে।

জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন গ্রামে মহিলাদের ঋতুস্রাব চলাকালীন পুরুষদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যেই এই গাঁওকর প্রথা প্রচলিত হয়। এই সময় মেয়েদের গ্রাম থেকে বহু দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা পরিত্যক্ত জায়গায় রাখা হয়। সম্প্রতি এই কুপ্রথার বলি হতে হয় মহারাষ্ট্রের এক মহিলাকে। প্রায় তিন বছর আগে এই রাজ্যের গারচিরোলি গ্রামে ওই মহিলা অনাহারে মারা যান। সেই খবরটি জানার পর তরুণ পরিচালক যুধাজিৎ বসু এই প্রথার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে নেমে পড়েন। প্রথাটির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি নিজে এই ফিল্মের কাহিনী সাজিয়েছেন। সিনেমাটির শ্যুটিংও হয়েছে মহারাষ্ট্রের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে।

সাধারণত এই সময়ে এক প্রকার নির্বাসনে থাকা এই সমস্ত মহিলারা কোনও পুরুষের সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। এমনকি তাঁদের আহারের জন্য অন্য কোনও মহিলাকে খাবার পৌঁছনোর অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই জায়গা গ্রাম থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় অনেক সময় দেরিতে খাবার পৌঁছায়। এই ফিল্মে সেই ঘটনার ওপর বাস্তবধর্মী একটি কাল্পনিক টানাপোড়েন তুলে ধরা হয়েছে। ছবির গল্পে করোনার মতো অতিমারির সময়ে গাঁওকর প্রথা একটি মেয়ে বা নারীর জীবনে কি দুঃসহ হয়ে উঠতে পারে, তার বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে। ছবির কাহিনীতে
রয়েছে করোনার সময়ে গাঁওকরে থাকা একটি মেয়ে ও তার প্রেমিকের সামাজিক ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসার লড়াই। যেখানে প্রেমিক একজন পরিযায়ী শ্রমিক। কাহিনীর শুরুতে দেখা যাচ্ছে গাঁওকর প্রথা থেকে রেহাই পেতে তাঁরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। সেজন্য গাওকর প্রথার নিয়ম টপকে মেয়েটি ছেলেটির সঙ্গে কিভাবে দেখা করবে সেটাই ছবির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। এদিকে সেই সময় গ্রামে একজন যুবক মারা যায়। তখন মেয়েটি গভীর চিন্তায় পড়ে যায়। তার মনে আশঙ্কা জন্মে, এই মরে যাওয়া ছেলেটিই তার প্রেমিক নয় তো! একদিকে সামাজিক নিষেধাজ্ঞা, আর একদিকে এই ভয় নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়াটাকে ছবিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মেধাবী ও তরুণ পরিচালক যুধাজিৎ বসু ছাত্র জীবনে প্রথমে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেন। সেই পড়া শেষ না করে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে মাস কমিউনিকেশন নিয়ে পড়তে শুরু করেন। কিন্তু কোথাও মন বসাতে পারেননি। কারণ, তাঁর মন পড়ে ছিল চলচ্চিত্র নির্মাণে। অতীতে পৃথ্বীজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথভাবে দু’টি ছোট ছবি নির্মাণ করেন। এরপর পুনে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে চলচ্চিত্র পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে পৃথ্বীজয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ‘কাকতাড়ুয়া’ নামে একটি পূর্ণ দৈঘ্যের ছবি পরিচালনার কাজ শুরু করেছেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর ছবি মনোনীত হওয়ায় তিনি যথেষ্ট আনন্দিত।

Related posts

Leave a Comment