সিঙ্গাপুরের লাজারাস দ্বীপের কাছে জলে ডুবে মৃত্যু হওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক জুবিন গর্গের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সিঙ্গাপুর পুলিশের তরফে করোনারের আদালতে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় জুবিন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁকে লাইফ জ্যাকেট পরার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন।
করোনারের আদালতে পেশ করা পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন একটি ব্যক্তিগত নৌযানে করে কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে সমুদ্রভ্রমণে বেরিয়েছিলেন জুবিন গর্গ। যাত্রার শুরুতেই নৌযানের কর্মীরা যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লাইফ জ্যাকেট পরার কথা বলেন। কিন্তু জুবিন সেই পরামর্শ মানতে রাজি হননি বলে আদালতে জানানো হয়।
পুলিশের বক্তব্য, সমুদ্রে নামার কিছু সময়ের মধ্যেই আচমকা জলের মধ্যে তলিয়ে যান জুবিন। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও জুবিনকে আর বাঁচানো যায়নি।
ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, জলের মধ্যে ডুবে যাওয়াই মৃত্যুর প্রধান কারণ। শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি টক্সিকোলজি পরীক্ষায় রক্তে অ্যালকোহলের উপস্থিতির কথাও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সিঙ্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
করোনারের আদালতে পুলিশ আরও জানায়, দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিল এবং সমুদ্রে কোনও ঝড় বা অতিরিক্ত ঢেউয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। ফলে এটিকে নিছক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই প্রাথমিক ভাবে ধরা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর সিঙ্গাপুর প্রশাসনের তরফে ফের এক বার সমুদ্রভ্রমণের সময় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মদ্যপ অবস্থায় জলে নামা এবং লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সমুদ্রে যাওয়া যে কতটা বিপজ্জনক, সেই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
জুবিন গর্গের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল, সামান্য অবহেলাই কী ভাবে প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
