‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরু, ১৬ দিনে ঘুরবেন ২০-র বেশি জেলা
বিহারে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের আবহে রাস্তায় নামলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার সাসারাম থেকে শুরু করলেন তাঁর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’। হুঙ্কার ছুড়ে দিলেন—“বিহারের মানুষের ভোট চুরি হতে দেব না।”
বিরোধী জোটের শক্তি প্রদর্শন
এই কর্মসূচিতে কেবল কংগ্রেস নয়, জোটসঙ্গী ‘ইন্ডিয়া’-র নেতানেত্রীরাও শামিল হয়েছেন। প্রথম দিনের সমাবেশের মঞ্চে ছিলেন আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব, তাঁর পুত্র ও বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে-সহ অন্য নেতারাও।
রাহুলের অভিযোগ, “আসল ভোটারদের নাম কেটে নতুন নাম জুড়ে এসআইআর-এর নামে ভোট লুঠের চেষ্টা হচ্ছে। আগে আমরা জানতাম না কমিশন কীভাবে ভোট কারচুপি করে, এখন সব পরিষ্কার। এ বার সেই চুরি আমরা ধরব।” তাঁর দাবি, “এ লড়াই শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, এটি সংবিধান রক্ষার লড়াই। আরএসএস-বিজেপি দেশজুড়ে সংবিধান মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
লালু-তেজস্বীর সুর মিলন
লালুপ্রসাদ যাদবের বক্তব্য, “যে কোনও মূল্যে ভোট চোর বিজেপিকে রুখতে হবে। একজোট হতে হবে সকলকে।”
তেজস্বী অভিযোগ করেন, “বিজেপি যে কাজ নিজে করতে পারছে না, তা কমিশনকে দিয়ে করাচ্ছে। এভাবে বিহারের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
দীর্ঘ সফর, সরাসরি মানুষের সংস্পর্শে
১৬ দিনের এই যাত্রায় রাহুল গান্ধী গয়া, মুঙ্গের, ভাগলপুর, কাটিহার, পূর্ণিয়া, মধুবনী, দ্বারভাঙা, পশ্চিম চম্পারণ-সহ ২০টিরও বেশি জেলা সফর করবেন। প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ১ সেপ্টেম্বর পটনায় শেষ হবে কর্মসূচি। পথে পথে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি।
রাহুলের আহ্বান, “এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র ও সংবিধান বাঁচানোর আন্দোলন। আপনারা সবাই এই যাত্রায় শামিল হয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সরব হোন।”
কমিশন বনাম কংগ্রেস
উল্লেখ্য, এর আগেই রাহুল অভিযোগ তুলেছিলেন—বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন লোকসভা ভোটে কারচুপি করেছে। ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ঢোকানো হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। এমনকি কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে এনেছিলেন। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয় এবং রাহুলকে প্রমাণ দিতে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়।
সামনেই বিহার বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটের আগে বিরোধীদের এই রাস্তায় নামা নিঃসন্দেহে বাড়তি চাপ তৈরি করবে এনডিএ শিবিরের ওপর।
previous post
