রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের পুলিশ পরিষেবা শাখার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, West Bengal Police-এর একাধিক শীর্ষ আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস আধিকারিককে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের এই নির্দেশ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নতুন পদে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বদলি ও নিয়োগ
- হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার কে. সাবারি রাজ কুমারকে Criminal Investigation Department West Bengal (সিআইডি)-তে ডিআইজি পদমর্যাদায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- সিআইডির ডিআইজি গৌরব লালকে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।
- ষষ্ঠ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার প্রবীন প্রকাশকে ব্যারাকপুরে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাটালিয়নে কমান্ডিং অফিসার পদে পাঠানো হয়েছে।
- নবম ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার সন্দীপ মণ্ডলকে সপ্তম ব্যাটালিয়নে একই পদে বদলি করা হয়েছে।
- ডব্লিউবিপিএস আধিকারিক শোভন অধিকারী, যিনি বারুইপুর পুলিশ জেলার গোয়েন্দা শাখায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন, তাঁকে রাজ্যের টেলিযোগাযোগ শাখায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
সাইবার ও আঞ্চলিক দপ্তরে রদবদল
- পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ মহাপরিদর্শক অশোক কুমার প্রসাদকে সাইবার শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক করা হয়েছে।
- সাইবার শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বিশাল গর্গকে পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক রাজেশ কুমার যাদবকে বাঁকুড়া রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
- বাঁকুড়া রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক শীশ রাম ঝাঝরিয়াকে ট্রাফিক শাখায় এবং ট্রাফিক শাখার পুলিশ মহাপরিদর্শক সুকেশ কুমার জৈনকে উত্তরবঙ্গ অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।
রেঞ্জ স্তরে বদলি
- মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ ওয়াকার রাজাকে জলপাইগুড়ি রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
- রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি সুধীর কুমার নীলকান্তমকে মুর্শিদাবাদ রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
- জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি নিম্বলকর সন্তোষ উত্তমরাওকে রায়গঞ্জ রেঞ্জে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত বদলি ও নিয়োগ ‘জনস্বার্থে’ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও মজবুত করা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় অভিজ্ঞ আধিকারিকদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের অভ্যন্তরে এই ব্যাপক রদবদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়াবে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
