March 12, 2026
দেশ বিদেশ

পশ্চিম এশিয়া সংঘাতে বিশ্ব তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা: আইইএ রিপোর্ট

নয়াদিল্লি — পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ব তেলের বাজারে ইতিহাসের অন্যতম বড় সরবরাহ বিপর্যয় তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি দৈনিক অন্তত ১ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিকল্প পথে তেল পরিবহনের সীমিত সুযোগ এবং স্টোরেজ ট্যাঙ্ক দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে এই উৎপাদন কমাতে হয়েছে। কৌশলগত এই জলপথে ট্যাঙ্কার চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইইএ।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন হতো। বর্তমানে সেই প্রবাহ প্রায় ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

আইইএ অনুমান করছে, মার্চ মাসে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ প্রায় ৮০ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন কমে যেতে পারে। যদিও কাজাখস্তান ও রাশিয়ার মতো নন-ওপেক+ দেশগুলির উৎপাদন কিছুটা বাড়লে সেই ঘাটতির আংশিক সমাধান হতে পারে।

ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ স্টোরেজ ট্যাঙ্ক দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং রপ্তানি কার্যত থমকে রয়েছে।

এই সংঘাতের প্রভাব শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজারেই নয়, পরিশোধিত জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং আক্রমণ ও রপ্তানি সমস্যার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লক্ষ ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।

চাহিদার ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বহু ফ্লাইট বাতিল হওয়া এবং এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে বিশ্ব তেলের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত কমতে পারে বলে জানিয়েছে আইইএ।

এর আগে এই সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার সদস্য দেশগুলি বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে তেলের মোট মজুত ৮২০ কোটিরও বেশি ব্যারেল রয়েছে, যা ২০২১ সালের শুরু থেকে সর্বোচ্চ। এই মজুত কিছুটা হলেও সরবরাহ ঘাটতির ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

Related posts

Leave a Comment