বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) কেরালা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছে সবরীমালা মন্দিরে সোনা চুরির অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার জন্য। সংগঠনটির দাবি, আদালত কর্তৃক গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (SIT) বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবাধীন হতে পারে, যাদের কয়েকজন নেতার নামও এই মামলায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।ভিএইচপি তাদের আবেদনে আরও দাবি করেছে যে, রাজ্যের বিভিন্ন দেবস্বম বোর্ড—যেমন ত্রাভাঙ্কোর, কোচিন, মালাবার ও গুরুভায়ুর দেবস্বম বোর্ড—এর অধীনে থাকা মন্দিরগুলোর মূল্যবান গহনা ও ধাতব সামগ্রীর বিশুদ্ধতা, ওজন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট ও মূল্যায়ন (audit and appraisal) করা হোক।
সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য হাজির হয় বিচারপতি রাজা বিজয়ারাঘবন ভি ও বিচারপতি কে. ভি. জয়কুমার-এর বেঞ্চে। মালাবার দেবস্বম বোর্ডের আইনজীবী জানান, বোর্ডের অধীনে ১,০০৮টিরও বেশি মন্দির রয়েছে এবং প্রত্যেক মন্দিরের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিদের ওপর। আদালত এরপর পরামর্শ দেয়, যেহেতু মামলার বিষয়বস্তু ট্রাস্টিদের সঙ্গেও সম্পর্কিত, তাই তাদের অতিরিক্ত পক্ষভুক্ত (party) করা উচিত।ভিএইচপি-র সাধারণ সম্পাদক অনিল ভিলাইল দাখিল করা আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভাকাথানম থানার ইন্সপেক্টর অনীশ ও কাইপামঙ্গলাম থানার ইন্সপেক্টর বিজু রাধাকৃষ্ণন, যারা বর্তমানে SIT-এর সদস্য, তারা অতীতে দেবস্বম ভিজিল্যান্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন সেই সময় যখন সোনা চুরি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
এতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দ্বারপালক মূর্তির সোনার আবরণ অন্যান্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছিল ‘গোল্ড প্লেটিং’-এর অজুহাতে, এবং এতে বহিরাগত কয়েকজনও জড়িত থাকতে পারেন। তাই মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হলে হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI)-কে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।এছাড়াও, ভিএইচপি আদালতের কাছে প্রার্থনা জানিয়েছে যে, স্রী পূর্ণাথয়ীশা মন্দিরসহ অন্যান্য মন্দিরে দেবতার সম্পত্তি নিখোঁজের ঘটনাগুলিও তদন্তের আওতায় আনা হোক এবং গত ২০ বছরের মহাজর (রেকর্ড) জমা দিতে দেবস্বম বোর্ডগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হোক।আদালত এদিন বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা (response) চেয়ে মামলাটি ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত (adjourned) করেছে।
