বসিরহাট, ১৭ জানুয়ারি—পরিকাঠামোর চরম অব্যবস্থা, নিত্য যানজট এবং যাত্রী নিরাপত্তার ভয়াবহ ঝুঁকি—সব মিলিয়ে বসিরহাট মহকুমার ভ্যাবলা রেল স্টেশন আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করলেও উন্নয়নের প্রশ্নে রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলিই শেষ কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।বসিরহাট মহকুমা শহরের অন্তর্গত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনের মধ্যে একটি ভ্যাবলা।
শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত হলেও এই স্টেশন থেকেই ভবানীপুর, মালঞ্চ, সন্দেশখালি, বাসন্তী-সহ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ রেল যোগাযোগে নির্ভর করেন। যাত্রীচাপ ক্রমশ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে পরিকাঠামোর কোনও উন্নয়ন হয়নি—এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের।সবচেয়ে বড় বিপদ, আপ ও ডাউন লাইনের জন্য ভ্যাবলা স্টেশনে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি প্লাটফর্ম। একই সময়ে দুই দিকের ট্রেন ঢুকলে যাত্রীদের মধ্যে কার্যত ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্লাটফর্মের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার ন্যূনতম জায়গাও থাকে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় নেবে কে—রেল না রাজ্য?সমস্যা শুধু স্টেশনের ভিতরে নয়। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় স্টেশন সংলগ্ন রেলগেটটি যানবাহনের ভিড়ে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সঙ্কীর্ণ এই রাস্তাই বসিরহাট মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগপথ। কয়েক মিনিটের রেলগেট বন্ধ মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট।
রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া, অফিসযাত্রী—সবাই আটকে পড়ছেন এই অব্যবস্থার জেরে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও ভোট মিটলেই ভ্যাবলা স্টেশন কার্যত ভুলে যান জনপ্রতিনিধিরা। রেল কর্তৃপক্ষ বলে রাস্তা রাজ্যের বিষয়, আর রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য—স্টেশন উন্নয়ন রেলের দায়িত্ব। এই দায় এড়ানোর রাজনীতির মাঝখানে পড়ে নিত্যদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে ভ্যাবলা স্টেশনে আপ ও ডাউন লাইনের জন্য পৃথক প্লাটফর্ম নির্মাণ করতে হবে।
পাশাপাশি স্টেশন সংলগ্ন রাস্তাটির সম্প্রসারণ ও রেলগেট এলাকায় স্থায়ী যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। শুধু পরিকল্পনা নয়, সময়বদ্ধ কাজ না হলে এই অব্যবস্থা আরও ভয়াবহ আকার নেবে বলেই আশঙ্কা।স্থানীয়দের স্পষ্ট প্রশ্ন—দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কি আবার ‘দপ্তরের ফাইল’-এর মধ্যেই চাপা পড়ে যাবে? নাকি এবার নিত্যযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে রেল ও রাজ্য সরকার বাস্তব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে? ভ্যাবলা স্টেশন আজ সেই উত্তরই চাইছে।
