ওয়াশিংটন — আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিয়ম এবং জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য বাজারে ঢোকানোর অভিযোগে মোট ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার ঘোষণা করল আমেরিকা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিয়ম না মেনে বাণিজ্য চালানোর অভিযোগেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগে বুধবার ভারত, চিন-সহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর কথা জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (আমেরিকার সময় অনুযায়ী) সেই তালিকায় আরও বহু দেশকে যুক্ত করে জানানো হয়, মোট ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান, রাশিয়া, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব এবং ইজরায়েল-এর মতো দেশও। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই দেশগুলির অনেকের সঙ্গেই আমেরিকার শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমেরিকার অভিযোগ, এই দেশগুলির বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য প্রবেশ করছে এবং সেগুলি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলি যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এই প্রসঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির বলেন, “বাধ্যতামূলক শ্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ঐকমত্য তৈরি হলেও অনেক দেশ এই ধরনের পণ্য তাদের বাজারে ঢোকা আটকাতে পারছে না।”
১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা অনুযায়ী এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পণ্যের উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে বুধবার চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর কথা ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই সময়ই জানানো হয়েছিল, মোট ৬০টি দেশকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই তালিকায় থাকা সব দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের উপর যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা কার্যকর করা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের এই ধাক্কার পরেই ট্রাম্প প্রতিটি দেশের উপর ১৫ শতাংশ সাময়িক শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। তবে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের শুল্ক ১৫০ দিনের বেশি চালু রাখা যায় না।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা জানিয়েছে, ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে চলা তদন্তপ্রক্রিয়া ওই সময়সীমার মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
