26 C
Kolkata
February 4, 2026
দেশ

UPCOP অ্যাপে বদলে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাজের ধরন, মোবাইলেই মিলছে ২৭টি পরিষেবা

লখনউ— যোগী আদিত্যনাথ সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পুলিশিং উদ্যোগের আওতায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের UPCOP অ্যাপ ও সিটিজেন পোর্টাল সাধারণ মানুষের কাছে থানার ডিজিটাল বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই ২৭ ধরনের পুলিশ পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে এফআইআর দায়েরের সুবিধাও। ফলে বারবার থানায় যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন নাগরিকরা।


রবিবার এই বিষয়ে তথ্য দিতে গিয়ে রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) রাজীব কৃষ্ণ জানান, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও জনমুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা হয়েছে। এর ফলেই UPCOP অ্যাপ কার্যত একটি ‘ডিজিটাল থানা’ হিসেবে কাজ করছে।
ডিজিপি জানান, এই অ্যাপ পরিষেবাগুলিকে সহজ করার পাশাপাশি নিষ্পত্তির সময়ও অনেকটাই কমিয়েছে। অনলাইন এফআইআর নথিভুক্তকরণ, এফআইআরের কপি ডাউনলোড, হারানো জিনিসের রিপোর্ট, চরিত্র যাচাই, ভাড়াটে যাচাই, গৃহকর্মী ও কর্মচারী যাচাই—সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা মিলছে এই অ্যাপে।

এখনও পর্যন্ত পাঁচ মিলিয়নের বেশি মানুষ UPCOP অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। অ্যাপের মাধ্যমে ২১ মিলিয়নেরও বেশি এফআইআরের কপি ডাউনলোড করা হয়েছে এবং সাত লক্ষ ত্রিশ হাজারের বেশি মানুষ হারানো জিনিসের অনলাইন রিপোর্ট নথিভুক্ত করেছেন।


অ্যাপটিকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাঁদের আবেদনের অগ্রগতি সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারেন। হিন্দি ও ইংরেজি—দু’টি ভাষাতেই অ্যাপটি উপলব্ধ। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য SOS বাটন ও লোকেশন ট্র্যাকিং ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়েছে। পাশাপাশি মানচিত্রে নিকটবর্তী থানার অবস্থান দেখার সুবিধাও যোগ করা হয়েছে, যা সংকটকালে বিশেষভাবে সহায়ক হচ্ছে।


রাজীব কৃষ্ণ আরও জানান, যাচাই সংক্রান্ত পরিষেবাগুলিতেও সময়ের বড় সাশ্রয় হয়েছে। বর্তমানে চরিত্র যাচাই সম্পন্ন হচ্ছে প্রায় ছয় দিনে, ভাড়াটে যাচাই আট দিনের মধ্যে এবং কর্মচারী যাচাই প্রায় পাঁচ দিনে, যেখানে আগে এই প্রক্রিয়াগুলিতে অনেক বেশি সময় লাগত। তাঁর কথায়, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ পুলিশের জবাবদিহি বাড়াচ্ছে এবং স্মার্ট পুলিশিংয়ের মূল লক্ষ্য হল নাগরিকদের দ্রুত ন্যায় ও স্বস্তি প্রদান।

Related posts

Leave a Comment