স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর পর উত্তরপ্রদেশে রেকর্ড ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় অবশিষ্ট যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ১১৪টি আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজারের কম, যার মধ্যে ৬৩টি আসন বিজেপি এবং ৪১টি আসন সমাজবাদী পার্টি জিতেছিল।
ওই নির্বাচনে ১৫টি আসনে জয়ের বা পরাজয়ের ব্যবধান ছিল এক হাজারেরও কম এবং তার মধ্যে ১০টি আসনে ৫০০ ভোটের কম ব্যবধানে ফল নির্ধারিত হয়। এই ১৫টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও তাদের সহযোগীরা ৯টি এবং এসপি জোট ৬টি আসনে জয় পায়, অথচ বর্তমানে ওই আসনগুলিতে ৩২ হাজার থেকে ১ লক্ষ ১২ হাজার পর্যন্ত ভোট কাটা পড়েছে। এসআইআর-এর এই পরিসংখ্যান বিজেপির জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষত শহরাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ায় দলটি চিন্তিত, কারণ বিজেপিকে দীর্ঘদিন ধরেই শহুরে ভোটারভিত্তিক দল হিসেবে দেখা হয়।
তবে ক্ষতির মুখে শুধু বিজেপিই নয়, সমাজবাদী পার্টিও প্রভাবিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব জেলায় বিপুল সংখ্যক মুসলিম ভোটার কাজের সূত্রে বিদেশে থাকেন, তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং পুনরায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া জটিল। বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো বাদ পড়া ভোটারদের নাম যোগ না হলে ১০ হাজারের কম ব্যবধানের আসনগুলিতে বিজেপিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের জানান, এই ভোটারদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই বিজেপির সমর্থক।
এদিকে খসড়া তালিকা থেকে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ নাম বাদ পড়ার পর এখন নজর দেওয়া হয়েছে এক মাসের দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমায়, যা চলবে ৬ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ যাঁরা ১৮ বছরে পা দিয়েছেন, সেই নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি নথির অভাব, আনম্যাপড অবস্থা বা গণনার সময় বুথ লেভেল অফিসারদের অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফের যোগ করার চেষ্টা চলছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে বিজেপি অন্য দলগুলির থেকে অনেকটাই এগিয়ে, যেখানে বিজেপি এখন পর্যন্ত ১,১২১টি আবেদন জমা দিয়েছে, সেখানে সমাজবাদী পার্টি দিয়েছে ২৬টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি মাত্র ১৯টি আবেদন করেছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া জানান, খসড়া তালিকায় নাম না থাকা যোগ্য ভোটাররা প্রয়োজনীয় নথি সহ ফর্ম-৬ পূরণ করে আবেদন করতে পারবেন এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে ১৮ বছরে পৌঁছনো তরুণরাও এই ফর্মের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। তিনি জানান, স্পেশাল সামারি রিভিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জমা নেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলির নিযুক্ত বুথ লেভেল এজেন্টরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০টি ফর্ম জমা দিতে পারবেন।
এই আবেদনগুলির শুনানি ও যাচাই ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৬ মার্চ। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, খসড়া তালিকায় বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে দল তাদের পুরো সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় করেছে এবং প্রতিটি বুথে অন্তত ২০০ জন ভোটারের নাম যোগ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
