উত্তরপ্রদেশে গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) স্থাপনে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভা জিসিসি ইউনিটগুলির জন্য জমি কেনার ক্ষেত্রে ফ্রন্ট-এন্ড ল্যান্ড সাবসিডি অনুমোদন করেছে। সদ্য অনুমোদিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP)-এর মাধ্যমে এই নীতি কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে অঞ্চলভিত্তিক ভর্তুকির হার নির্ধারণ করে রাজ্যজুড়ে সুষম শিল্প বিকাশের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার লখনউয়ে সরকারি আধিকারিকরা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধ নগর ও গাজিয়াবাদ জেলায় স্থাপিত যোগ্য জিসিসি ইউনিটগুলি জমি কেনার ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ভর্তুকি পাবে।
পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য জেলা (গৌতম বুদ্ধ নগর ও গাজিয়াবাদ বাদে) এবং মধ্যাঞ্চলে স্থাপিত ইউনিটগুলির জন্য এই ভর্তুকির হার ৪০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। পূর্বাঞ্চল ও বুন্দেলখণ্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার সর্বাধিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জমি ভর্তুকির ব্যবস্থা করেছে, যা ওই অঞ্চলগুলিতে নতুন শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই জমি ভর্তুকি শুধুমাত্র সেই সব প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যারা রাজ্য শিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নগর সংস্থা বা অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে জমি কিনবে।
ভাড়ার জায়গা বা কো-ওয়ার্কিং স্পেসে পরিচালিত ইউনিটগুলি এই সুবিধার আওতায় পড়বে না। সরকার আরও জানিয়েছে, ভর্তুকি প্রাপ্ত ইউনিটগুলিকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে হবে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া বা নির্ধারিত সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমি সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বন্ধক থাকবে। যদি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পূর্ণ না হয়, তবে ভর্তুকির অর্থ ১২ শতাংশ বার্ষিক সুদসহ পুনরুদ্ধার করা হতে পারে।
এই ভর্তুকির আর্থিক দায়ভার বহন করবে শিল্প উন্নয়ন দপ্তর। রাজ্য সরকারের মতে, এই নীতির মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশে গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার স্থাপনের গতি বাড়বে, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতের বিস্তার ঘটবে এবং বিশেষ করে পূর্বাঞ্চল ও বুন্দেলখণ্ডে যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা রাজ্যের সামগ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্প উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে।
