নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট ২০২৫:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত অতিরিক্ত ২৫% শুল্কে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে মোট শুল্কহার পৌঁছেছে ৫০ শতাংশে। এর জেরে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে ভারতের বস্ত্র ও পোশাক শিল্প।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের (FIEO) সভাপতি এসসি রালহান জানান, তিরুপুর, নয়ডা, সুরাট-এর একাধিক বস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র কার্যত উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ বাড়তি শুল্কের ফলে ভারতীয় পোশাক রপ্তানি এখন ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটাই প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়েছে।
রপ্তানি খাতে বড় ক্ষতি
‘গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ’-এর হিসেব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে আমেরিকায় ভারতের রপ্তানি প্রায় ৪৩% কমে ৮৭ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে আসতে পারে মাত্র ৪৯.৬ বিলিয়ন ডলারে।
কোন কোন খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত?
- পোশাক ও টেক্সটাইল: ৬০.৩–৬৩.৯% শুল্ক, রপ্তানি ধাক্কা খেয়ে ৫.৪ বিলিয়ন ডলার থেকে অনেকটা কমতে পারে। টেক্সটাইল খাতে শুল্ক ৫৯%।
- চিংড়ি: ৫০% শুল্ক, গত বছর ছিল ২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি।
- কার্পেট: ৫২.৯% শুল্ক, শিল্পে বড় ক্ষতি।
- পেট্রোপণ্য: ৬.৯% শুল্ক (বাণিজ্য মূল্য ৪.১ বিলিয়ন ডলার)।
- অর্গ্যানিক কেমিক্যালস: ৫৪% শুল্ক (২.৭ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য)।
- গয়না ও মূল্যবান পাথর: ৫২.১% শুল্ক।
- স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা: ৫১.৭% শুল্ক।
- মেশিনারি: ৫১.৩% শুল্ক।
- গাড়ি ও যন্ত্রাংশ: ২৬% শুল্ক।
- আসবাব: ৫২.৩% শুল্ক।
কোন খাতে ছাড়?
- ওষুধ শিল্প: কোনও শুল্ক চাপানো হয়নি। গত বছর আমেরিকায় ভারত থেকে ৯.৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি হয়েছিল।
- স্মার্টফোন: ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিশেষত ভারতেই তৈরি আইফোন, যার আমেরিকায় রপ্তানির পরিমাণ গত বছর ছিল ১০.৬ বিলিয়ন ডলার।
