আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর তাৎক্ষণিক প্রভাব রপ্তানিতে সীমিত হলেও, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের প্রভাব অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।নতুন শুল্ক নীতির ফলে মার্কিন বাজারে ভারতের ৪৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রপ্তানি সরাসরি প্রভাবিত হবে। এর মধ্যে টেক্সটাইল, রত্ন ও গয়না, চিংড়ি, চামড়া ও জুতো, পশুসম্পদজাত পণ্য, রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ভারত এখন বৈচিত্র্যময় বাণিজ্য কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (EFTA) সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নিউজিল্যান্ড, চিলে ও পেরুর সঙ্গে চলমান আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত।
তবে এগুলোর ফলাফল আসতে সময় লাগবে এবং মার্কিন শুল্কজনিত ক্ষতি পুরোপুরি সামাল দিতে পারবে না।অর্থনৈতিক প্রতিবেদন আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, নীতি স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোতে উচ্চ বিনিয়োগের কারণে ভারতের সার্বভৌম রেটিং S&P কর্তৃক ‘BBB-’ থেকে ‘BBB’ তে উন্নীত হয়েছে।
এটি দেশের দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি ও সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রমাণ।অভ্যন্তরীণ দিক থেকে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মজুত শস্য, স্থিতিশীল তেলের দাম ও বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ খাদ্যশস্যের দামকে সহনশীল রাখতে পারে।সরকার ইতিমধ্যেই নেক্সট-জেনারেশন সংস্কারের জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ সহজ করবে, কমপ্লায়েন্স খরচ কমাবে এবং স্টার্টআপ ও MSME খাতকে সহায়তা করবে।
শিগগিরই চালু হতে যাওয়া GST সংস্কার পরিবারগুলিকে সরাসরি স্বস্তি দেবে এবং ভোগ বাড়াবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
previous post
