যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত দেশগুলোর ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ভারতীয় চাল রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাসমতি চাল রপ্তানি হওয়ায় এই সতর্কবার্তা ভারতীয় রপ্তানি খাতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশন (IREF) জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্ক নীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় চাল রপ্তানির ওপর। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় চালের সবচেয়ে বড় বাজার নয়, তবুও ইরানকেন্দ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপ সৃষ্টি করলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
IREF-এর মতে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাসমতি চাল রপ্তানিকারক এবং ইরান এই চালের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। ইরানের ওপর মার্কিন চাপ বাড়লে আর্থিক লেনদেন, বিমা, পরিবহণ ও পেমেন্ট ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত রপ্তানির গতি কমাতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষক থেকে শুরু করে মিল মালিক ও রপ্তানিকারক—সব স্তরেই।
রপ্তানিকারকরা আরও জানিয়েছেন, এই ধরনের শুল্ক হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা তৈরি করে। ফলে আগাম চুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। একইসঙ্গে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সংযুক্ত বাণিজ্যের ওপর নজরদারি বাড়ায়, তবে অন্যান্য দেশও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে, যা ভারতীয় চালের বিকল্প বাজার খোঁজার চাপ বাড়াবে।
তবে IREF স্পষ্ট করেছে যে ভারতীয় চাল রপ্তানি কেবল একটি বা দুটি দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের একাধিক দেশে ভারতের শক্ত বাজার রয়েছে। তাই সামগ্রিকভাবে বড় ধাক্কা না লাগলেও, স্বল্পমেয়াদে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সংস্থাটি কেন্দ্র সরকারের কাছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্তরে বিষয়টি নজরে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং প্রয়োজনে বিকল্প বাজার ও পেমেন্ট ব্যবস্থার পথ সুগম করা যায়।
