21 C
Kolkata
March 22, 2026
বিদেশ

জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ড ‘দরকার’ বলে দাবি ট্রাম্পের

ডেনমার্কের কড়া প্রত্যাখ্যান

জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে গ্রিনল্যান্ড ‘অত্যাবশ্যক’—এই দাবি তুলে ফের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ঝড় তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের অধীন স্বশাসিত এই ভূখণ্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন করে তীব্রতা তৈরি হয়েছে, কারণ কোপেনহেগেন স্পষ্ট ভাষায় যে কোনও ধরনের দখল বা সংযুক্তির ধারণা আগেই নাকচ করেছে।

রবিবার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চিনের তৎপরতা বাড়ায় গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, আর্কটিক সাগরের চারপাশে রুশ ও চিনা জাহাজ নিয়মিত চলাচল করছে, যা ওয়াশিংটনের কাছে ‘গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ’ তৈরি করছে।

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর এই মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা। ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করার ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সীমান্তের বাইরে শক্তি প্রয়োগে আরও আক্রমণাত্মক পথে হাঁটছে?

ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। এই মুহূর্তে এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।’ তাঁর আরও দাবি, ডেনমার্ক একা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। এমনকি প্রমাণ না দেখিয়েই তিনি বলেন, ইউরোপও নাকি চায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিক।

গ্রিনল্যান্ড ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামোও রয়েছে। পাশাপাশি, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপের উপর ওয়াশিংটনের নজর আরও বেড়েছে, বিশেষ করে চিনের উপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ডেনমার্ক। প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের চিন্তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাঁর কথায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করা দরকার—এই আলোচনা কোনও অর্থই বহন করে না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেনিশ রাজ্যের কোনও অংশ দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

ফ্রেডেরিকসেন ওয়াশিংটনকে ‘ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন—তাঁদের ভূমি বিক্রির জন্য নয়।

এটি প্রথমবার নয়। অতীতেও একাধিকবার ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত ২১ ডিসেম্বর তিনি লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করেন, যা নিয়ে কোপেনহেগেন ও নুক—দু’জায়গাতেই প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়। ল্যান্ড্রি প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের লোভ আর্কটিক অঞ্চলকে নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার পর গ্রিনল্যান্ড—ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির ভাষা আরও জোরালো করে তুলছে বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।

Related posts

Leave a Comment