ওয়াশিংটন, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের এক চিঠিতে তিনি রহমানের ‘ঐতিহাসিক নির্বাচন’-এর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
হোয়াইট হাউস সূত্রে নিশ্চিত হওয়া এবং বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের প্রকাশিত ওই চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমাদের দুই দেশের অংশীদারিত্ব পারস্পরিক সম্মান ও একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের অভিন্ন স্বার্থের উপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে শক্তিশালী ও সার্বভৌম দেশগুলি সমৃদ্ধ হতে পারে।’
চিঠিতে তিনি বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপর বিশেষ জোর দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যখন আপনার দায়িত্ব শুরু করছেন, তখন আশা করি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করবেন। এতে দুই দেশের কৃষক ও শ্রমিকরা উপকৃত হবেন।’ তাঁর মতে, বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত হলে দুই দেশের অর্থনীতি নতুন সুযোগ পাবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি লেখেন, ‘আমি আশা করি আপনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলি সম্পূর্ণ করবেন, যাতে আপনার সেনাবাহিনী বিশ্বের সেরা মার্কিন নির্মিত উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ পায়।’ এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
ট্রাম্প চিঠিতে উল্লেখ করেন, তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর করতে আগ্রহী। ‘আমি আপনার সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে শক্তিশালী করতে চাই,’ লেখেন তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের উপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
চিঠির শেষে তারিক রহমানের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের জন্য শুভেচ্ছা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই দেখছে ওয়াশিংটন।
