23 C
Kolkata
February 11, 2026
রাজ্য

রাজ্যের স্যাক্টরা বঞ্চিত আজও

নিজস্ব চিত্র

অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিতান্ত বাধ্য হয়ে উচ্চ শিক্ষায় কেন্দ্রের চালু হওয়া নতুন শিক্ষানীতি মেনে নিয়েছেন রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই চার বছরের অনার্স চালু হয়ে গেছে রাজ্যে।শুরু হয়ে গেছে NEP সিলেবাস অনুযায়ী পঠন পাঠন। কিন্তু এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রচুর শিক্ষক, যার ঘাটতি অব্যাহত রাজ্যের কলেজ গুলোতে। সরকার স্থায়ী শিক্ষকের পাশাপাশি অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পক্ষপাতি।সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে রাজ্যের শিক্ষাবিদ মহল।

২০১৯ সালের শেষের দিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হাওড়া প্রশাসনিক বৈঠকে ঘোষণার মাধ্যমে কলেজের অস্থায়ী( PTT,CWTT,GL) শিক্ষকদের এক ছাতার তলায় এনে SACT পরিচিতি দিয়েছিলেন, যা কার্যকর হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে।অথচ প্রায় ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য আজো পূর্ণাঙ্গ কোনো অর্ডার বেরোয়নি।নানা অসঙ্গতি পূর্ণ একটি(2081-Edn(cs)/10M-83/2019) মেমোরেণ্ডাম দিয়েই কাজ চলছে। এই ঘোষণায় সব থেকে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন রাজ্যের কলেজগুলিতে কর্মরত সিনিয়র শিক্ষকরা। তাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে মূল্যহীন।সামগ্রিক প্রাপ্তির থেকে অপ্রাপ্তিই বেশি। স্টেট এডেড কলেজ টিচার অ্যাসোসিয়েশন (SACTA)এর রাজ্য কমিটির সদস্য বিধান মাহাথা,কল্যান পট্টনায়ক,কোষাধ্যক্ষ তাপস মণ্ডল রা সম্মিলিত ক্ষোভ উগরে জানালেন, অবসরের বয়স ৬৫ বছর হয়নি ,নেই নির্দিষ্ট পে-স্কেল,পি.এফ,পেনশান, যারা ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছেন ,নির্ধারিত (৫ লক্ষ)গ্রাচ্যুইটির টাকা পেতে কালঘাম ছুটছে।বছর ঘুরে গেলেও মিলছে না এই সামান্য টাকা।গ্রাচ্যুইটির টাকা বৃদ্ধির দাবিও তারা করেছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্ব।

রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় যারা জীবন পাত করলো, নিজেদের উজার করে দিলো তারাই রয়ে গেছে উপেক্ষিত, বঞ্চিত।ক্ষুব্ধ এই শ্রেনীর শিক্ষকরা।স্যাক্টার রাজ্য সম্পাদক বিনয় কৃষ্ঞ দাস বলেন,রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের বার্তাতেই আমরা রাজ্য জুড়ে সংগঠিত হয়েছি।দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের নানা অসঙ্গতি বিষয়ে এবং ন্যায্য পাওনার দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে চলেছি সংগঠনগত ভাবে।সত্যি হলো এটাই, আজ পর্যন্ত সমস্যার সুরাহা মিললো না।একে একে অবসরের পথে সিনিয়র শিক্ষকরা।স্যাক্টার রাজ্য সভাপতি অরুণ কুমার পাল জানান,মুখ্যমন্ত্রী,শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েও আজ পর্যন্ত সদর্থক সাড়া না মেলায় আমরা হতবাক।

নজিরবিহীন ঘটনার শিকার আমরা।অভিজ্ঞতার মূল্য পাই নি,সিনিয়র শিক্ষকদের থেকে জুনিয়র শিক্ষকদের মাসিক ভাতা বেশি। সব থেকে যন্ত্রণা দায়ক হলো ,উচ্চশিক্ষায় জীবনপাত করা সত্ত্বেও অবসরের পর অনেকে জীবনদায়ী অসুধ কিনতে পারছেন না।মানবতাবাদী সরকারের নিরবতা আমাদের ব্যথিত করছে।তিনি আরও জানান,সরাসরি বার্তা না পেলেও সরকার আমাদের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানতে পেরেছি,কিন্তু যতক্ষণ ঘোষণা না হচ্ছে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।রাজ্যের স্যাক্টদের ধৈর্য্য চ্যুতির আভাস মিলছে।আপাতত তারা সরকারের সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায়।

Related posts

Leave a Comment