স্বাধীনতা দিবসের আবহে লালকেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী যখন আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রশংসা করেন, তখনই রাজনৈতিক তরজার বীজ বপন হয়ে যায়। সেই বিতর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বি কে হরিপ্রসাদ। তাঁর বক্তব্য—আরএসএস দেশের শান্তি বিনষ্ট করছে, এদের তুলনা কেবল তালিবানের সঙ্গেই চলে। তাই তিনি সংঘকে আখ্যা দিয়েছেন ‘ভারতীয় তালিবান’।
এমন বক্তব্য নিছক রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং এক বৃহত্তর বিতর্কের প্রতীক। হরিপ্রসাদের দাবি—স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএসের কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল না, অথচ আজ তারা ইতিহাসের লেখক সেজে বসেছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে সাভারকর—দেশভাগের প্রশ্নে যাদের অবস্থান নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে, আজ তাঁদের নাম গোপন রেখে কংগ্রেসকেই দায়ী করা হচ্ছে। ইতিহাসের এই পুনর্লিখন প্রচেষ্টাকেই তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করাচ্ছেন।
অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা বক্তব্যও যথেষ্ট কড়া। শেহজাদ পুনাওয়ালার ভাষায়, কংগ্রেস দেশপ্রেমী সংগঠনগুলিকে আক্রমণ করে, অথচ উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির প্রতি নরম মনোভাব দেখায়। আরএসএসকে তালিবান বলার মধ্যে তিনি দেখছেন কংগ্রেসের তথাকথিত ‘বিকৃত মানসিকতা’। বিজেপি আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, মহাত্মা গান্ধী থেকে প্রণব মুখোপাধ্যায়—বিভিন্ন সময়ে সম্মানীয় নেতারা আরএসএসকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন। সুতরাং আজকের এই আক্রমণ বিজেপির কাছে নিছক ভোট রাজনীতির অস্ত্র।
এই বিতর্কে আসল প্রশ্ন একটাই—ভারতীয় রাজনীতিতে ইতিহাসের ব্যবহার কি যুক্তিসঙ্গত? রাজনৈতিক মঞ্চে ইতিহাস বারবার হাতিয়ার হচ্ছে, আর তাতে বর্তমানের সমস্যাগুলো চাপা পড়ে যাচ্ছে। এক পক্ষ ইতিহাসের ব্যাখ্যা পাল্টাতে চাইছে, অন্য পক্ষ ইতিহাসের দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
আরএসএসকে ‘ভারতীয় তালিবান’ আখ্যা দেওয়া নিছক ভাষার ঝাঁজ নয়; এটি আসলে সেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ, যেখানে ইতিহাস, ধর্ম, দেশপ্রেম—সবই হয়ে উঠছে ভোট রাজনীতির জ্বালানি। প্রশ্ন উঠছে—এই সংঘাতের মাঝে গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের আসল সমস্যা কতটা জায়গা পাচ্ছে?
previous post
