33 C
Kolkata
April 3, 2025
Featured

শেষ হল ভারতীয় কিষাণ সংঘের ১৪ তম অখিল ভারতীয় অধিবেশন

নিজস্ব চিত্র

মিলন খামারিয়া, দান্তিওয়ারা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি: রবিবার শেষ হল ভারত তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো কৃষক সংগঠন ‘ভারতীয় কিষাণ সংঘ’-এর ১৪তম অখিল ভারতীয় অধিবেশন,যার সদস্য সংখ্যা ৪৩ প্রায় লক্ষ। গত ২১-২৩শে ফেব্রুয়ারি এই অধিবেশন বসেছিলো গুজরাট রাজ্যের দান্তিওয়ারাতে ‘সর্দার কৃষিনগর দান্তিওয়ারা এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি’তে। এই অধিবেশনে আগামী তিন বছরের জন্য ভারতীয় কিষাণ সংঘের অখিল ভারতীয় কার্যকারিণী সমিতি গঠিত হল।

নতুন গঠিত ভারতীয় কিষাণ সংঘের অখিল ভারতীয় – সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাঁই রেড্ডি এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন মোহিনী মোহন মিশ্র, উনি পুনরায় নির্বাচিত হলেন এই পদে। এছাড়াও ৫১ জনের নতুন সমিতি গঠিত হল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভানু থাপা হলেন অখিল ভারতীয় সম্পাদক এবং কল্যাণ কুমার মন্ডল হলেন অখিল ভারতীয় কার্যকারিণী সদস্য।

ভারতীয় কিষাণ সংঘের অখিল ভারতীয় সংগঠন মন্ত্রী পুনরায় নির্বাচিত হলেন দীনেশ দত্তাত্রেয় কুলকার্নি এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বের সংগঠন মন্ত্রী পুনরায় নির্বাচিত হলেন শ্রীনিবাস।

নব গঠিত সমিতির মূল লক্ষ্য হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হল ‘গো-কৃষি-বাণিজ্য’কে। জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে কৃষি জমির উর্বরতা যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমন উক্ত দ্রব্য ব্যবহার ক’রে উৎপাদিত ফসল খেয়ে দেশের মানুষের শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। অল্প বয়সে সুগার, প্রেসার, হৃদরোগ, ক্যন্সার ইত্যাদি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন দেশের মানুষ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে পাঞ্জাব। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, পাঞ্জাব রাজ্যের ভাতিন্ডা থেকে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য ট্রেনে ক’রে লোক মুম্বাই যাচ্ছেন, ‘ক্যান্সার স্পেশাল ট্রেন’ নাম হয়ে গেছে তার। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও প্রচুর মানুষ ক্যান্সার ও অন্যান্য মারণ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। প্রতি বছর ৩০ লক্ষ মানুষ চিকিৎসা করাতে দক্ষিণ ভারতে পাড়ি দেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১১ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক ৪-৫ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কারণে ওষুধ খেতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ। গোবর সার, নিম খোল, ভার্মিকম্পোস্ট ইত্যাদি সার ব্যবহার এবং বন্ধু পোকা, জৈব কীটনাশক ব্যবহার করে কীটপতঙ্গ দমন করতে হবে।

গতকাল অর্থাৎ ২২ শে ফেব্রুয়ারি গুজরাটের দান্তিওয়ারা থেকে পালানপুর পর্যন্ত ৩২ কিমি রাস্তায়, কৃষকরা ট্রাক্টর নিয়ে সমাজ জাগরণ ও কৃষক শক্তি প্রদর্শন করেন শান্তিপূর্ণ ভাবে। সারা ভারত থেকে এই অধিবেশনে আগত ৩০০০ এর বেশি কৃষক র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ১৫০ এর বেশি কন্ট্রাক্ট নিয়ে।

নবনির্বাচিত সভাপতি রেড্ডি বলেন, প্রত্যেক কৃষক আমাদের নেতা। প্রত্যেককে তার গ্রাম সমিতি শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যকে নিজের গ্রামের চাষীদের জৈব পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য অনুরোধ করুন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন। শক্তিশালী গ্রাম সমিতি গঠনই হোক আমাদের লক্ষ্য।

সাধারণ সম্পাদক মোহিনী বলেন, ‘গো-কৃষি-বাণিজ্য’-এ মাতৃশক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও বাণিজ্যের জন্য প্রচার বিভাগকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। দেশের যুবকরা কৃষি ভিত্তিক বাণিজ্যে এগিয়ে আসুক, তাদের রোজগার বাড়ানোর দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন- ‘ লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না’। ভারতীয় কিষাণ সংঘও স্বামীজীর কথাকে মান্যতা দিয়ে এগিয়ে চলেছে।

অখিল ভারতীয় সংগঠন মন্ত্রী দীনেশ বলেন, ‘গো- কৃষি- বাণিজ্য’-এর লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো। গত দশ বছরে দেশ- কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে ভারত সরকার এগিয়ে চলেছে। সেই বিকশিত ভারত গঠনে কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হয়েছে কারণ আমাদের দেশের ৬০% মানুষ কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। এই দেশের কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে, দেশের সবার যেন কাজ থাকে, সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে – এই হল আমাদের লক্ষ্য।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অখিল ভারতীয় সম্পর্ক প্রমুখ রামলাল বলেন, আর.এস.এস. পঞ্চ পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে। স্বদেশী অর্থাৎ দেশি দ্রব্য ব্যবহার, সামাজিক সমর সতা অর্থাৎ বিভেদ মুক্ত সমাজ, স্বাভিমান অর্থাৎ নিজের দেশের সব কিছু নিয়ে গর্ব করা, কুটুম্ব প্রবোধন অর্থাৎ দেশের সবাইকে আত্মীয় মনে করা ও নাগরিক শিষ্টাচার অর্থাৎ দেশের প্রতি জনগণের নাগরিক কর্তব্য পালন। বিকশিত ভারতে আমাদের লক্ষ্য হল – ভেদাভেদ মুক্ত, স্বাবলম্বী, আত্মীয় বোধে জাড়িত নতুন সমাজ গঠন। অন্নদাতা কৃষক সমাজের প্রতি নাগরিকরা যেন যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন, তারাই দেশের মূল চালিকা শক্তি।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে পুনরায় নির্বাচিত কল্যাণ বলেন, আমাদের রাজ্যের কৃষকরা যাতে ফসলের লাভকারী মূল্য পান তার জন্য আমরা আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে লড়াই করব এবং ‘গো-কৃষি-বাণিজ্য’কে সফল করব।

অখিল ভারতীয় সম্পাদক ভানু বলেন, সিকিম রাজ্য সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ করে সাফল্য পেয়েছে। ওখানে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। তাদের দেখানো পথে চলে আমরাও আমাদের পশ্চিমবঙ্গের কৃষিকাজকে বিষমুক্ত করব।

এই বৈঠকে যোগদান করেছিলেন ভারত সরকারের নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ ড. সুমন বৈরী, ‘সর্দার কৃষিনগর দান্তিওয়ারা এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি’র ভাইস চ্যান্সেলর ড. রবীন্দ্র চৌহান ও অন্যান্য অনেক গুণী মানুষ।

Related posts

Leave a Comment