তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের আবহে ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় বিস্ফোরণের খবর সামনে এল। শনিবার ভোররাতে তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর এই সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যে বিমানবন্দরের একটি অংশে ভয়াবহ আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওতে ঘন কালো ধোঁয়া এবং আগুনের শিখা আকাশে উঠতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি বিমানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো আরও কয়েকটি ভিডিওতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। এই সব দৃশ্য থেকে অনুমান করা হচ্ছে, রাজধানীর একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইজরায়েল ঘোষণা করেছিল, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার অভিযান শুরু করছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করলে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ থামবে না।
এই সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ১২৫টিরও বেশি ড্রোন এবং ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে শুক্রবার সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে খবর। একই সঙ্গে রিয়াধ এবং আল-খারজকে লক্ষ্য করে আসা একাধিক ড্রোনও নষ্ট করা হয়েছে।
এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। আরব লিগ এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়েছে।
গত ১ মার্চ রিয়াধে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ জানায়, ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার অধিকার তাদের সদস্য দেশগুলির রয়েছে।
