সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের সাইডলাইনে তিয়ানজিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক শুধুই প্রতীকী লিমুজিন রাইড ছিল না; বরং এটি ভারতের কূটনৈতিক সমীকরণের এক নতুন আভাস দিয়েছে। উভয় নেতার হাসিখুশি, অনানুষ্ঠানিক কথোপকথন ও দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কঠোর ভাষার একেবারে বিপরীত ছবি ফুটিয়ে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারতের পণ্যের ওপর নজিরবিহীন ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে, যা আসলে মস্কোর সঙ্গে ভারতের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের কারণে শাস্তি হিসেবেই ধরা হচ্ছে। কিন্তু ভারত পিছু হটার পরিবর্তে প্রকাশ্য মঞ্চে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করল, যেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও উপস্থিত ছিলেন।চীনের জন্য এটি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ফোরামের বিকল্প দেখানোর সুযোগ, রাশিয়ার জন্য এটি বিচ্ছিন্ন না থাকার প্রমাণ, আর ভারতের জন্য এটি ছিল বার্তা দেওয়ার মুহূর্ত— কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন শুল্কের হুমকি বা কূটনৈতিক সময়সীমার দ্বারা নির্ধারিত হবে না।
ভারতের এই অবস্থান অযৌক্তিক প্রতিবাদ নয়, আবার বেপরোয়া অভিযাত্রাও নয়; বরং অর্থনীতি ও নিরাপত্তা যেখানে একসূত্রে গাঁথা, সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই নেওয়া ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর অনেক ভারতীয় রপ্তানি খাত এই উচ্চ শুল্কে ধাক্কা খেতে পারে। তার সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক সারচার্জ ভারতকে কার্যত বাধ্য করছে সস্তা জ্বালানি ও মার্কিন বাজারের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে।
কিন্তু ভারতের মতো বড় অর্থনীতি ও উচ্চাভিলাষী দেশের কাছে এটি কোনো কার্যকর বিকল্প নয়।রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কেবল ঠান্ডা যুদ্ধের ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শক্তি সরবরাহ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও নতুন প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই ওয়াশিংটনের চাপকে সরল দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে ভারতের বিকল্প সীমিত হয়ে যাবে। ফলে শূন্যস্থান পূরণে ভারতকে বহুমুখী ব্যবস্থার দিকে এগোতে হচ্ছে, যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে সংহতি ও চীনের সঙ্গে বাস্তববাদী সহযোগিতা অপরিহার্য।তিয়ানজিনের বার্তাই হলো— ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্ব দেবে, তবে কখনোই নিজের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বিসর্জন দিয়ে নয়।
