28 C
Kolkata
April 10, 2026
রাজ্য

গরুপাচারে মদতের অভিযোগে বিএসএফ আধিকারিকের শাস্তি বহাল, কঠোর বার্তা শীর্ষ আদালতের

দিল্লি: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি গরুপাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক বিএসএফ সাব-ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তি বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনও গাফিলতি কোনওভাবেই সহ্য করা যায় না।

বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে–এর বেঞ্চ রায়ে জানায়, ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের ৪৮(১)(সি) ধারায় অভিযুক্ত ভগীরথ চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত এবং যথাযথ।

আদালতে জানা যায়, অভিযুক্ত ভগীরথ চৌধুরী প্রায় ৩৬ বছর ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী–তে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের ১৬ নম্বর গেটে পোস্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তিনি সীমান্ত দিয়ে বেআইনি গরুপাচারে সহায়তা করেছিলেন। তদন্ত চলাকালীন কিছু প্রমাণ উদ্ধার হয় এবং এক ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকারও করেন। যদিও পাচার হওয়া গরু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং কোনও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যও পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক তদন্তের পর বিষয়টি জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ওঠে। সেখানে বিএসএফ আইনের ৪০ ধারায় ভগীরথ চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং চাকরিচ্যুতির নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্ট–এর দ্বারস্থ হন।

আদালতে তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, গরুপাচারের অভিযোগে যে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। পাশাপাশি জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এছাড়া তাঁকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন অভিযুক্ত। তবে সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয় দিল্লি হাইকোর্ট এবং নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে।

এরপর দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ভগীরথ চৌধুরী। কিন্তু সেখানেও তিনি স্বস্তি পাননি। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাহিনী প্রয়োজনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে, যার মধ্যে চাকরিচ্যুতিও অন্তর্ভুক্ত।

তবে আদালত অভিযুক্তের দীর্ঘ ৩৬ বছরের চাকরিজীবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে পেনশনের জন্য আবেদন করার অনুমতি দিয়েছে। যদিও তিনি পেনশন পাবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দিল। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বে কোনও অবহেলা বা বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এই বার্তাই আরও একবার পরিষ্কার করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

Related posts

Leave a Comment