নয়াদিল্লি — ধর্মীয় আচার হিসেবে মন্দিরে পশু বলি নিষিদ্ধ করার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়ে চার সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।
অ্যাডভোকেট শ্রুতি বিস্তের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছে, প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস অ্যাক্ট, ১৯৬০-এর ধারা ২৮ অনুযায়ী ধর্মীয় প্রথা অনুসারে পশু হত্যা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। এই বিধানের কারণেই অনেক জায়গায় এখনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পশু বলি দেওয়ার প্রথা চালু রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারী ওই ধারাটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন এবং ধর্মের নামে পশু হত্যা রোধ করতে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা তৈরির নির্দেশ চেয়েছেন আদালতের কাছে।
মামলায় বলা হয়েছে, প্রাণীকল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও পশু বলির প্রথা দেখা যায়। বিশেষ করে হিমালয় সংলগ্ন এলাকা, উত্তর-পূর্ব ভারত, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলে মন্দির ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পশু বলি দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই প্রথা রুখতে একটি সমন্বিত নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এর মধ্যে কঠোর আইন প্রণয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাণীকল্যাণ সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও বলা হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি, ধর্মীয় কারণে পশু হত্যাকে আইনি ছাড় দেওয়া হলে প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস অ্যাক্ট-এর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। প্রাণীদেরও অযথা নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আইনকেও আধুনিক মানবিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে পশু বলি বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও চাওয়া হয়েছে।
