তেল আভিভ, ২৮ ফেব্রুয়ারি: ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরান–এর উপর ব্যাপক সামরিক হামলা চালানোর পর তেল আভিভের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর–এ চরম বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে সব উড়ান বাতিল হওয়ায় শতাধিক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন।
বিমানবন্দরে উপস্থিত এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই জরুরি বিপদ সংকেত বেজে ওঠে এবং সবাইকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়। তিনি বলেন, ‘সাইরেন বাজতেই আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নিচে চলে যেতে বলা হয়। কয়েক মিনিট পরে আবার উপরে ফিরতে বলা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের বিমানবন্দর খালি করার নির্দেশ আসে। সব উড়ান বাতিল হয়ে গিয়েছে। এখন আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকব।’
আরেক যাত্রী সিরি জানান, তিনি ইতিমধ্যেই বিমানে উঠে বসেছিলেন, এমন সময় হামলার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়। এরপরই সব উড়ান বাতিল করে দেওয়া হয়। আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু কাঁদতে চাই। নিজের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত বাড়ি ফিরতে চাই। এই পরিস্থিতি খুবই ভয়ঙ্কর।’
এই সামরিক অভিযানের ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ‘অপারেশন লায়নের গর্জন’ নামে একটি যৌথ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইরান থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থা থেকে যে বিপদ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।’
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় গোটা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবাতেও পড়েছে। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া–র দিল্লি থেকে তেল আভিভগামী একটি উড়ান মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একাধিক আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক যাতায়াত, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা, যাঁরা হঠাৎ করে বিদেশের মাটিতে আটকে গিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
বর্তমানে ইজরায়েলের বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উড়ান পরিষেবা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
