পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ফের উত্তেজনা হরমুজ প্রণালীতে। গুজরাতের কান্ডালা বন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদসংস্থা এএফপি সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার পর জাহাজটির একাংশে আগুন ধরে যায়।
‘ময়ূরী নারী ব্যাংকক’ নামে তাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ওই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খলিফা বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পেরিয়ে সেটির গুজরাতে পৌঁছনোর কথা ছিল। হামলার সময় জাহাজটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন পণ্য বোঝাই ছিল বলে জানা গিয়েছে।
মাঝ সমুদ্রে আগুন লাগার পর জাহাজটি থেমে যায়। এরপর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে ওমানের নৌবাহিনী। প্রাথমিকভাবে ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও তিন জন জাহাজের ভিতরে আটকে ছিলেন বলে খবর। তাঁদের অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয় এবং উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
সমুদ্র বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ জানিয়েছে, ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। তবে কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে। ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালীর বাইরে অপেক্ষা করছে।
ভারতের জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশকুমার সিন্হা জানিয়েছেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ভারতের প্রায় ২৮টি জাহাজ আটকে রয়েছে। এই জাহাজগুলিতে মোট ৭৭৮ জন কর্মী রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। এই পথ অচল হয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
