প্রতিবার স্বাধীনতা দিবসে ভারত তার ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির পথ ও আগামী শতবর্ষে উন্নত দেশে রূপান্তরের যাত্রা নিয়ে আত্মসমীক্ষা করে। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ও সাংস্কৃতিক আলোচনায় ভারতীয় প্রবাসীদের সাফল্যের গল্পগুলোই বেশি প্রচার পাচ্ছে।
অথচ এগুলো ভারতের মানবসম্পদের সম্ভাবনার প্রতিফলন মাত্র।১৮৯৩ সালে স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলনে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, তা ভারতের আত্মপরিচয় ও বিশ্বমঞ্চে অবস্থানকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। কিন্তু আজকের প্রবাসীরা একইভাবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে না। বিবেকানন্দ ভারতীয় পরিচয়ে বিশ্বকে বার্তা দিয়েছিলেন, অথচ প্রবাসীরা তাদের অবস্থানকে অনেক বেশি শর্তসাপেক্ষ ও ভৌগোলিক স্বার্থের ভিত্তিতে সাজিয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৫.৪১ মিলিয়ন ভারতীয় প্রবাসী রয়েছে। তারা নিজেদের “সাংস্কৃতিক দূত” বা “সফট পাওয়ার টুল” হিসেবে তুলে ধরলেও যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করে বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন তাদের কণ্ঠস্বর প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক রপ্তানি সংকট, বিশেষ করে বস্ত্র ও অটোমোবাইল খাতে, প্রবাসীদের নীরবতা তা প্রমাণ করে।
যদিও ভারতীয় প্রবাসীরা গত অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ১৩৫.৪৬ বিলিয়ন ডলার, এটি কেবল পরিবারের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়—রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বা জাতি গঠনে তা কাজে আসে না। গুগলের সুন্দর পিচাই বা মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলার মতো ব্যক্তিত্বের সাফল্য প্রশংসনীয় হলেও এগুলো ব্যক্তিগত অর্জন, ভারতের সাফল্য নয়।
প্রবাসীদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভারতের উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে পারবে না। বরং দেশের অভ্যন্তরে থাকা শিক্ষক, ছাত্র, ডাক্তার, সরকারি কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক ও স্টার্ট-আপ নেতাদের শক্তিশালী করাই হবে প্রকৃত পথ।ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তার জনগণের দক্ষতা, উদ্ভাবন, মূলধন ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার উপর—প্রবাসীদের অস্থায়ী স্বীকৃতির উপর নয়।
