24 C
Kolkata
March 22, 2026
রাজ্য

এসআইআর নিয়ে কমিশনের আশ্বাস বনাম মাঠের বাস্তব, লক্ষ লক্ষ ভোটারের শুনানি এখনও অধরা

বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশন বারবার ‘পরিকল্পিত ও সময়বদ্ধ’ কাজের দাবি করলেও, বাস্তব চিত্র ক্রমেই ভিন্ন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। কমিশনেরই নোটিস ও শুনানি সংক্রান্ত জেলা-ভিত্তিক নথি ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও লক্ষ লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আদৌ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বাড়ছে সংশয়।

নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে এখন পর্যন্ত ৬৫ লক্ষের বেশি নোটিস প্রস্তুত হয়েছে। কিন্তু তার অর্ধেকেরও কম নোটিস ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে। প্রায় ৩৩ লক্ষ নোটিস এখনও ডেলিভারির অপেক্ষায়। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক ভোটার জানতেই পারেননি, তাঁদের নাম নিয়ে কোনও আপত্তি উঠেছে কি না বা শুনানিতে হাজির হতে হবে কি না। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই অবস্থায় শুনানি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

শুনানির অগ্রগতিও আশাব্যঞ্জক নয়। কমিশনের লক্ষ্য ছিল এক কোটির বেশি ভোটারের শুনানি সম্পন্ন করা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯ লক্ষের কিছু বেশি শুনানি হয়েছে। জেলা ধরে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া-সহ একাধিক জনবহুল জেলায় নোটিস পৌঁছানো এবং শুনানি—দু’ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়ে গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কমিশন অতিরিক্ত মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ এবং শুনানি কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে প্রশাসনের অন্দরের মত, এত দেরিতে লোকবল বাড়ালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শুনানি শেষ করা কার্যত অসম্ভব। অনেক জেলাতেই সীমিত সংখ্যক আধিকারিকের উপর বিপুল চাপ পড়ছে, যার ফলে গুণগত শুনানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও অর্ধেকেরও বেশি শুনানি বাকি থাকায়, প্রকৃত শুনানি ছাড়াই বহু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, সময়ের চাপে পড়ে যদি যাচাই অসম্পূর্ণ থাকে, তবে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—এসআইআর কি সত্যিই একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল সংশোধনী প্রক্রিয়া, নাকি নির্ধারিত সময় রক্ষা করতে গিয়ে তা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে? কমিশনের নিজের প্রকাশিত তথ্যই এই সন্দেহকে আরও জোরালো করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Related posts

Leave a Comment