আগামী সপ্তাহে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটনে তিনি মূলত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলা নিয়ে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে পর্দার আড়ালে ভারত-মার্কিন আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বিলম্বিত বাণিজ্য চুক্তি এবং সেই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য দিক, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কিছুটা চাপে পড়েছে। গত সাত মাসে এই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে যাচ্ছেন জয়শঙ্কর। এর আগে তাঁর শেষ মার্কিন সফর হয়েছিল ট্রাম্প ভারতের উপর শুল্ক নীতি প্রয়োগ করার আগেই।
এই সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে বহু পরিবর্তন ঘটেছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পর। ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাসে শুল্ককে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের উপরও। তবে সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, ওয়াশিংটন কিছুটা নমনীয় অবস্থানে যেতে পারে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি জানান, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের একটি পথ রয়েছে, কারণ ভারতীয় রিফাইনারিগুলির রাশিয়ান তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি সূত্রের খবর, ওয়াশিংটন ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল কেনা পুনরায় শুরু করার অনুমতিও দিতে পারে, যাতে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের বিকল্প তৈরি হয়। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মার্ক লিনস্কট মন্তব্য করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টাকে নতুন গতি দিতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে জয়শঙ্করের এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক কিছুটা দুর্বল হলেও এখন তা ফের স্বাভাবিক পথে ফিরছে। সফরের আগে জয়শঙ্কর নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে একটি কংগ্রেস প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল। আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলা নিয়ে কথা হয়। এই বৈঠক জয়শঙ্করের ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গত ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফোনালাপ এবং চলতি মাসে জয়শঙ্কর ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কথোপকথনও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নবতর উদ্যোগের ইঙ্গিত দেয়। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকেই তুলে ধরে, বিশেষ করে চীনের উপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে।
