মহারাষ্ট্রের জুন্নরে অবস্থিত ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের জন্মস্থান শিবনেরি দুর্গে পদপিষ্টের কোনও ঘটনা ঘটেনি বলে স্পষ্ট জানালেন পুনের পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল। তাঁর দাবি, ভোররাতে সামান্য ধাক্কাধাক্কির জেরে কয়েক জন পড়ে গিয়ে চোট পেলেও ‘স্ট্যাম্পেড’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য, বুধবার সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত শিবনেরি দুর্গে আসতে শুরু করেন। সারা রাত ধরেই দর্শনার্থীদের যাতায়াত চলছিল। দর্শন শেষে নামার পথে মীনা দরওয়াজার কাছে ১৫-২০ জনের একটি দল ‘শিব জ্যোতি’ নিয়ে দ্রুত নেমে আসছিল। সেখানে কর্তব্যরত এক সাব-ইন্সপেক্টর ও কয়েক জন পুলিশকর্মী তাঁদের ধীরে নামতে বলেন। কিন্তু তাড়াহুড়োর মধ্যে এক যুবক পা হড়কে পড়ে গেলে আরও সাত-আট জন সিঁড়িতে পড়ে যান। তিন জনের পায়ে সামান্য চোট লাগে। সকলেই নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার পর দুর্গে ওঠানামা নিয়ন্ত্রিত ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান গিল।
এ দিন ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিবনেরি দুর্গে উৎসবের আবহ দেখা যায়। ‘জয় জিজাউ, জয় শিবরায়’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। ঐতিহ্য মেনে বিভিন্ন সংগঠনের তরুণেরা রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে শিব জ্যোতি নিয়ে দুর্গে পৌঁছন। ঢোল-তাশা ও লেজিম নৃত্যের তালে উৎসবে সামিল হন শিবপ্রেমীরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী Devendra Fadnavis, উপমুখ্যমন্ত্রী Eknath Shinde, উপমুখ্যমন্ত্রী ও পুনে জেলার অভিভাবক মন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আশীষ শেলার। তাঁরা শিবাজি মহারাজের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিবাজি মহারাজের প্রতিষ্ঠিত অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসননীতির আদর্শেই রাজ্য সরকার পরিচালিত হচ্ছে। জুন্নর ও শিবনেরি অঞ্চলের উন্নয়নে অর্থের অভাব হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
উপমুখ্যমন্ত্রী শিন্দে বলেন, শিবাজি মহারাজই প্রথম ‘রায়তের রাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ও সব সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করছে।
শিবজয়ন্তী উপলক্ষে এ দিনের অনুষ্ঠান ঘিরে বিপুল জনসমাগম হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
