নয়াদিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি: কর্ণাটকের কালাবুরগি জেলার লাডলে মাশাইক দরগাহ প্রাঙ্গণে রাঘব চৈতন্য শিবলিঙ্গে মহাশিবরাত্রি পূজা বন্ধের আর্জি শুনতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি দীপাঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি এস.সি. শর্মার বেঞ্চ আবেদনটি বিবেচনায় অনীহা প্রকাশ করলে দরগাহ পরিচালন কমিটি আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়। পরে আদালত মামলাটি খারিজ হিসেবে নথিভুক্ত করে।
দরগাহ পরিচালন কমিটির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিভা দত্ত মাখিজা যুক্তি দেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিকে ওয়াক্ফ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। তা সত্ত্বেও তৃতীয় পক্ষ কর্ণাটক হাইকোর্টে রিট দায়ের করে নির্দিষ্ট উপলক্ষে পূজার অনুমতি চাইছে। তাঁর অভিযোগ, হাইকোর্ট সময়ে সময়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে পূজার অনুমতি দিচ্ছে, যার মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারির মহাশিবরাত্রি উপলক্ষেও অনুমতি রয়েছে। এতে সম্পত্তির ধর্মীয় চরিত্রে হস্তক্ষেপ হচ্ছে এবং ‘প্লেসেস অফ ওয়ারশিপ (স্পেশাল প্রভিশনস) অ্যাক্ট, ১৯৯১’-এর লঙ্ঘন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আবেদনে দরগাহের ওয়াক্ফ চরিত্র সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ এবং প্রাঙ্গণে প্রবেশ, পূজা, পরিদর্শন, সমীক্ষা, নির্মাণ বা ধর্মীয় চরিত্র পরিবর্তনের মতো কোনও অন্তর্বর্তী আদেশ না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশেরও উল্লেখ করা হয়, যেখানে উপাসনাস্থলের ধর্মীয় চরিত্র নিয়ে নতুন মামলা গ্রহণে আদালতগুলিকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি, বিষয়টি ‘প্লেসেস অফ ওয়ারশিপ’ আইন সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলির সঙ্গে ট্যাগ করার আবেদন জানানো হয়।
তবে বিচারপতি দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসা এই ক্ষেত্রে উপযুক্ত পথ নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এটি সর্বভারতীয় প্রশ্ন না হলে ৩২ অনুচ্ছেদের আবেদন এভাবে গ্রহণ করা যায় না। কর্ণাটক হাইকোর্ট কিছু আদেশ দিয়েছে বলে আমরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারি না।”
এর আগে জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও মন্তব্য করেছিলেন, যথাযথ হাইকোর্টে না গিয়ে সরাসরি ৩২ অনুচ্ছেদের আবেদন দায়েরের প্রবণতা উদ্বেগজনক।
বিতর্কিত স্থাপনাটি ১৪শ শতকের সুফি সাধক হজরত শেখ আলাউদ্দিন আনসারি (লাডলে মাশাইক) এবং ১৫শ শতকের হিন্দু সাধক রাঘব চৈতন্যের সঙ্গে যুক্ত। প্রাঙ্গণে রাঘব চৈতন্যের সমাধির উপর নির্মিত কাঠামোকে ‘রাঘব চৈতন্য শিবলিঙ্গ’ বলা হয়। ঐতিহাসিকভাবে দুই সম্প্রদায়ই সেখানে প্রার্থনা করে এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপাসনার অধিকার নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত বছরও মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্ণাটক হাইকোর্ট নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সীমিত সংখ্যক—১৫ জন—হিন্দু ভক্তকে নির্দিষ্ট সময়ে পূজার অনুমতি দেয়। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার নির্দেশও ছিল। অতীতেও উভয় সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক সময়সীমা নির্ধারণ করে পূজার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
