নয়াদিল্লি, ৩ ফেব্রুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের ২০২১ সালের প্রাইভেসি নীতি এবং মূল সংস্থা মেটা প্ল্যাটফর্মসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য শেয়ার করা নিয়ে মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় ব্যবহারকারীদের “গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে খেলা” করতে দেওয়া যায় না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ মেটা প্ল্যাটফর্মস ও হোয়াটসঅ্যাপ এলএলসি-র করা আবেদনের শুনানিকালে এই মন্তব্য করে।
এই আবেদনটি জাতীয় কোম্পানি আইন আপিল ট্রাইবুনাল (এনসিএলএটি)-এর সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে, যেখানে প্রতিযোগিতা কমিশন অফ ইন্ডিয়া (সিসিআই)-র আরোপিত ২১৩.১৪ কোটি টাকার জরিমানা বহাল রাখা হয়েছিল। একইসঙ্গে, বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীর তথ্য শেয়ারের অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত এনসিএলএটি-র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সিসিআই একটি ক্রস-আপিল দায়ের করেছে।
আবেদনগুলি গ্রহণ করতে সম্মত হয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি নীতিকে ‘নাও, না হলে ছাড়ো’ ধরনের ব্যবস্থা বলে আখ্যা দেয়, যেখানে গ্রাহকদের প্রকৃত কোনও বিকল্প নেই। আদালত বলে, “কোনও পছন্দই নেই। বাজারে আপনার সম্পূর্ণ একচেটিয়া আধিপত্য, আর তারপরও বলছেন পছন্দ দিচ্ছেন। হয় হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে দিন, নাহলে আমরা আপনার তথ্য শেয়ার করব।” শুনানির সময় বেঞ্চ বারবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই নীতির ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, “রাস্তার ধারে ফল বিক্রি করা এক গরিব মহিলা—তিনি কি আপনার নীতির শর্ত বুঝবেন? ভাষা এতটাই কৌশলে লেখা যে আমাদের মধ্যেও কেউ কেউ হয়তো বুঝতে পারবেন না।” তথ্য ব্যবহারের এই পদ্ধতিকে গুরুতর বলে বর্ণনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, “এটি ব্যক্তিগত তথ্য চুরির একটি ভদ্র উপায়। আপনি এই দেশের গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে খেলতে পারেন না। আপনি সংবিধানবাদের সঙ্গে উপহাস করছেন।” ব্যক্তিগত কথোপকথনের পরপরই লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত, যদিও হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তাদের মেসেজিং পরিষেবা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড এবং তারা ব্যবহারকারীর কথোপকথন পড়তে পারে না।
কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের উদ্বেগকে সমর্থন করে বলেন, আজকের দিনে ব্যক্তিগত তথ্যের আর্থিক মূল্য রয়েছে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপকে তাদের প্রাইভেসি নীতি ও ডেটা শেয়ারিং ব্যবস্থার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যেখানে ব্যবহারকারীর সম্মতি কীভাবে নেওয়া হয় এবং তা কীভাবে জানানো হয়, সে বিষয়ও উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারকেও মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে আগামী সপ্তাহে।
