ট্রাম্পের দাবি ইরানের সামরিক শক্তি ‘প্রায় ধংস’
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রের দিকে লঞ্চ হওয়া একাধিক ড্রোনকে তারা ভূপাতিত করেছে। দেশটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাতটি ড্রোনকে ধাওয়া করে ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে দুইটি সরাসরি ‘শাইবা’ তেলক্ষেত্রের দিকে আসছিল। এই তেলক্ষেত্রটি আরামকো কর্তৃপক্ষের একটি অন্যতম বড় উৎপাদন ক্ষেত্র, যা মধ্যপ্রাচ্যের (পশ্চিম এশিয়া) গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
অন্য প্রতিবেশী উপসাগরী দেশগুলোও তাদের আকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং আরও বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে ইরানের সমর্থিত বাহিনীর সরাসরি দায়ের অভিযোগ উঠেছে, যদিও ইরান এসব অভিযুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেকে রক্ষা করছে বলে দাবি করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে আমেরিকার সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে “প্রায় ধ্বংস” করেছে। তিনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় নির্মূল হয়েছে এবং কিছু অংশ ধ্বংস করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক সীমিত সমস্যা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, তেল বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। উভয় পক্ষই সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থান দৃঢ় রাখার চেষ্টা করছে, যা সংকটের সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সমন্বিত আক্রমণের প্রায় এক সপ্তাহ পরও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বহাল রয়েছে। এই হামলা ইরানের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল এবং তা আরও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যাত্রী চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
সামরিক কর্মকাণ্ড, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও প্রায় একই সময়ে চলতে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সতর্কতা জারি করছে, বিমান সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইটের সময়সূচি সামঞ্জস্য করছে, এবং বিশ্ব নেতারা পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়ে ওঠার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
