কলকাতা — আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক খুনের ঘটনাকে ঘিরে চলা মামলার শুনানি নিয়ে নতুন মোড় তৈরি হল কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলা রিলিজ় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, খুন হওয়া চিকিৎসকের পরিবারের করা পৃথক মামলা এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য মামলার শুনানি এই ডিভিশন বেঞ্চে আর হবে না। বিচারপতি দেবাংশু বসাক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ডিভিশন বেঞ্চ নিয়মিতভাবে ফৌজদারি আপিল সংক্রান্ত মামলা শোনার বেঞ্চ নয়। ফলে এত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘ শুনানির প্রয়োজন এমন একটি মামলার প্রতিদিন শুনানি করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা এই বেঞ্চের পক্ষে সম্ভব নয়।
আদালতে বিচারপতি বসাক বলেন, ‘এই মামলার দ্রুত শুনানির জন্য আদালতে মেনশন করা হয়েছে এবং প্রধান বিচারপতির কাছেও ইমেল পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এত দীর্ঘ শুনানির মামলা নিয়মিতভাবে শুনে দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয়।’ সেই কারণেই এই সংক্রান্ত প্রতিটি মামলাই রিলিজ় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা গিয়েছে, পূর্বতন প্রধান বিচারপতি যখন এই ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন এই বেঞ্চে ফৌজদারি সংক্রান্ত আবেদনও শোনা হত। কিন্তু বর্তমানে আদালতের কাজের বণ্টনে পরিবর্তন হওয়ায় এই বেঞ্চ আর সেই ধরনের মামলা শুনছে না।
আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, এখন এই মামলাগুলি আবার প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল সিদ্ধান্ত নেবেন কোন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। সেই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি।
আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক খুনের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসক সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একাংশও দ্রুত এবং নিরপেক্ষ বিচার দাবি করে আসছেন। সেই প্রেক্ষাপটে মামলার শুনানি কোন বেঞ্চে হবে এবং কবে থেকে আবার শুরু হবে, তা নিয়ে এখন আগ্রহ বাড়ছে।
আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, নতুন বেঞ্চ নির্ধারিত হওয়ার পরেই মামলার শুনানির গতি আবার স্পষ্ট হবে। তবে এই সিদ্ধান্তে মামলার প্রক্রিয়া কিছুটা সময়ের জন্য স্থগিত অবস্থায় পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
previous post
