দিল্লি, ১১ ফেব্রুয়ারি: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ডেকান ডিজিটাল নেটওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন (ফেমা) লঙ্ঘনের মামলায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) একটি কম্পাউন্ডিং অর্ডার (নিষ্পত্তি আদেশ) জারি করেছে।
ইডির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেমা, ১৯৯৯-এর ধারা ১৫ অনুসারে আরবিআই ১৪ জানুয়ারি এই কম্পাউন্ডিং অর্ডার জারি করে। এর ফলে ফেমা, ১৯৯৯-এর বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে ডেকান ডিজিটাল নেটওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে চলা তদন্তের সমাপ্তি হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ইডির ‘নো অবজেকশন’ (আপত্তি নেই) জারি করার পরই আরবিআই এই আদেশ দেয়।
বিশ্বস্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইডি ফেমার বিধান অনুযায়ী তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইডি ফেমার ধারা ১৬ অনুযায়ী বিচারিক কর্তৃপক্ষের (Adjudicating Authority) কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে ফেমা, ১৯৯৯-এর অধীনে একাধিক লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়, যেগুলির জন্য পরে আরবিআই কম্পাউন্ডিং করেছে।
এই লঙ্ঘনগুলির মধ্যে ছিল—
ফেমা ২০/২০০০-আরবি-এর সূচি ১-এর অনুচ্ছেদ ৯(১)(এ) অনুযায়ী বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ (মোট ১১,৮২,৮৪,৩৯৯ টাকা) দেরিতে রিপোর্ট করা।
একই সূচির অনুচ্ছেদ ৯(১)(বি) অনুযায়ী শেয়ার ইস্যুর পর ফর্ম FCGPR দেরিতে জমা দেওয়া (মোট ১১,৮২,৮৪,৪০০ টাকা সংশ্লিষ্ট)।
ফেমার বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়কালে কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারা ১৬ অনুসারে শো-কজ নোটিস জারি করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পরে কোম্পানি ফেমার ধারা ১৫ অনুযায়ী উল্লিখিত লঙ্ঘনগুলির কম্পাউন্ডিংয়ের জন্য আরবিআই-এর কাছে আবেদন করে। আরবিআইয়ের অনুরোধে ইডি আইনের প্রকৃত চেতনা অনুযায়ী ‘নো অবজেকশন’ প্রদান করে।
এরপর ইডির আপত্তিহীনতার ভিত্তিতে আরবিআই ১,০৩,৩৩৩ টাকা এককালীন অর্থপ্রদানের মাধ্যমে উল্লিখিত লঙ্ঘনগুলির কম্পাউন্ডিং করে। ইডির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এর ফলে ফেমা, ১৯৯৯-এর অধীনে উক্ত লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে।”
