পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান শনিবার ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্য সরকার ₹১০০ কোটি টাকার মেগা পুনর্বাসন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করছে। লক্ষ্য—১০ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত ২,৩০০টি গ্রাম ও ওয়ার্ডকে মাটি ও ধ্বংসাবশেষমুক্ত করা।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যার পানি সরে গেলেও গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর কাদা, মাটি ও নোংরা রয়ে গেছে। এজন্য প্রতিটি গ্রামে জেসিবি মেশিন, ট্রাক্টর-ট্রলি ও শ্রমিক দিয়ে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এরা মৃত পশুর সঠিক নিষ্পত্তি করবে, এরপর ফগিং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হবে যাতে রোগ ছড়িয়ে না পড়ে।
পরিকল্পনার সময়সীমা:
- ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গ্রাম ধ্বংসাবশেষমুক্ত করা হবে।
- ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পাবলিক স্থাপনার মেরমত সম্পূর্ণ হবে।
- ২২ অক্টোবরের মধ্যে সব পুকুর পরিষ্কার শেষ হবে।
রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামকে প্রাথমিকভাবে ₹১ লাখ করে বরাদ্দ দিয়েছে। প্রয়োজনে বাড়তি অর্থও এই তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ:
- সব বন্যাকবলিত ২,৩০৩টি গ্রামে স্বাস্থ্য শিবির বসানো হবে।
- যেখানে আম আদমি ক্লিনিক আছে (৫৯৬ গ্রাম), সেখানেই শিবির চলবে। বাকি ১,৭০৭ গ্রামে স্কুল, আঙ্গনওয়াড়ি, ধর্মশালা বা পঞ্চায়েত ভবনে শিবির বসানো হবে।
- মোট ৫৫০টি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।
পশু সুরক্ষা কর্মসূচি:
- প্রায় ২.৫ লাখ পশু ৭১৩ গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- ভেটেরিনারি ডাক্তারদের দল গ্রামে গিয়ে পশুর স্বাস্থ্যসেবা দেবে।
- ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ক্ষতিগ্রস্ত পশুর টিকাদান শেষ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় এবার শীঘ্রই ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফসল ক্রয় শুরু হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডিগুলোও দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে এবং ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেগুলো প্রস্তুত হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে সমালোচনা করে মান বলেন, বিজেপি কঠিন সময়ে পাঞ্জাবকে কোনো সহায়তা দেয়নি। তিনি বলেন, রাজ্যের SDRF তহবিলে ২০১০ সাল থেকে ₹৫,০১২ কোটি এসেছে, যার মধ্যে ₹৩,৮২০ কোটি বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় খরচ হয়েছে। কেন্দ্রের ভুয়া প্রচার মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা মাত্র।
মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বন্যাকবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি আশাবাদী যে ঐক্যের মাধ্যমে পাঞ্জাব আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
