21 C
Kolkata
March 23, 2026
খেলা

রোহিত ও বিরাট থাকলে অধিনায়কত্ব অনেক সহজ হয়: শুভমন গিল

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিল জানালেন, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি দলের জন্য যেমন বড় সম্পদ, তেমনই তাঁর অধিনায়কত্বকেও অনেক সহজ করে তোলে। শনিবার সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে গিল বলেন, আধুনিক যুগের সেরা দুই ব্যাটার ড্রেসিংরুমে থাকলে চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেকটাই স্বস্তির হয়ে যায়।

গিল বলেন, “রোহিত ভারতের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে ওপেনারদের একজন এবং বিরাট ভাই সর্বকালের অন্যতম সেরা ওয়ানডে ব্যাটার। এই দুই জন যখন দলে থাকে, তখন অধিনায়ক হিসেবে আপনার জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।”

চাপের পরিস্থিতিতে তাঁদের অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে গিল আরও বলেন, “কঠিন সময় এলে ওরা দু’জনই জীবনে বহুবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। আপনি যে কোনো সময় তাঁদের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, তারা কীভাবে ভাবছে বা কী সিদ্ধান্ত নিত। একজন অধিনায়কের জন্য এই তথ্য অমূল্য।”

গত বছর টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর রোহিত ও বিরাট শুধুমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাটে মনোযোগ দিচ্ছেন এবং দু’জনই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। এই সময়ে রোহিত শর্মার গড় প্রায় ৬৯.৬, আর বিরাট কোহলি গড়ে প্রতি ইনিংসে ৯৪ রান করে চলেছেন, যা তাঁদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ধারাবাহিকতাও প্রমাণ করে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে নিজের বাদ পড়া নিয়েও মুখ খুলেছেন গিল। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। ভারত আক্রমণাত্মক টপ অর্ডারের দিকে ঝুঁকেছে, যেখানে অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিশানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

গিল বলেন, “একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বাস থাকে যে বিশ্বকাপ খেললে দেশের জন্য জিততে পারবেন। তবে নির্বাচকরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি তা সম্মান করি। টি-টোয়েন্টি দলকে আমার শুভেচ্ছা এবং আমি সত্যিই চাই তারা বিশ্বকাপ জিতুক।”
সাম্প্রতিক সময়ে চোটের কারণে কিছুটা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে গিলকে। গত অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ঘাড়ের চোট পান তিনি, যার ফলে পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজ মিস করতে হয়।

এই সময়টা তাঁর জন্য কঠিন ছিল স্বীকার করে গিল বলেন, “চোট পেলে কখনওই সহজ নয়, বিশেষ করে যখন সদ্য অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন। দলকে খেলতে দেখা এবং নিজে মাঠে নামতে না পারা ভীষণ হতাশাজনক।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তবে সেই সময়ে আপনাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দিতে হয় এবং ধীরে ধীরে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে হয়।”

ওয়ানডে ম্যাচ এখন তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রতিটি সিরিজের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন গিল। আগামী বছরের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি সিরিজকেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে ভারত।

গিল বলেন, “আমরা এখন খুব কম ওয়ানডে খেলি। তাই প্রতিটি সিরিজে কোন কম্বিনেশন কোন পরিস্থিতিতে কাজে লাগবে, সেটাই বোঝার চেষ্টা করি। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”

নিউজিল্যান্ড সিরিজ গিলের কাছে ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত এবং ২০১৯ সালে এই দলের বিরুদ্ধেই হ্যামিল্টনে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল তাঁর।

গিল বলেন, “নিউজিল্যান্ড আমার কাছে সবসময়ই স্মরণীয়। ওদের বিরুদ্ধে খেলতে নামা মানেই বাড়তি উত্তেজনা ও আলাদা অনুভূতি।”

Related posts

Leave a Comment