29 C
Kolkata
March 25, 2026
জেলা

ছদ্মবেশে মাঝগঙ্গায় অভিযান, গঙ্গা থেকে উদ্ধার বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি

ছদ্মবেশে গঙ্গার বুকে নেমে বড়সড় অস্ত্র পাচার চক্রের জাল ছিন্ন করল মালদহ জেলা পুলিশ। মাঝির ছদ্মবেশে মাঝগঙ্গায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি সেভেন এমএম পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন এবং ২১ রাউন্ড গুলি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর আসে যে জলপথে গঙ্গা ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্র আমদানির চেষ্টা চলছে। সেই অস্ত্র মালদহ জেলার কালিয়াচক এলাকার চড়বাবুপুর ঘাটে নামানো হবে বলে নির্দিষ্ট তথ্য পায় পুলিশ। খবর পাওয়ার পরেই বিশেষ কৌশল নেয় জেলা পুলিশ। সাধারণ মাঝির ছদ্মবেশে পুলিশের একটি দল নৌকায় করে মাঝগঙ্গায় অবস্থান নেয়, যাতে পাচারকারীদের উপর সন্দেহ না হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযানে নামে পুলিশ বাহিনী। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতির আঁচ পেয়ে পাচারকারীরা নৌকা থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ দেন। সাঁতরে পালিয়ে যায় দু’জন পাচারকারী। তবে তৎপর পুলিশ অস্ত্রসহ এক জনকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়। ধৃতের নাম সাবির আলম। সে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার রাধানগরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়ার সময় সাবির আলমের কাছ থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার। পুলিশ সূত্রের দাবি, এই অস্ত্রগুলি বৃহত্তর পাচার চক্রের অংশ এবং অন্য কোনও রাজ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জেরা করার জন্য আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার সূত্র ধরেই পুরো চক্রের বাকি সদস্যদের পরিচয় ও নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটি একটি বড় অস্ত্র পাচার চক্র। ধৃতকে জেরা করে আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট, গঙ্গা শুধু নদী নয়— অপরাধ জগতের কাছেও তা একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। পুলিশ প্রশাসনের মতে, জলপথকে ব্যবহার করে অস্ত্র, মাদক ও পাচারের চেষ্টা বাড়ছে। তাই নদীপথে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। ছদ্মবেশে চালানো এই অভিযানে পুলিশের কৌশলগত সাফল্যকে বড়সড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে প্রশাসনিক মহল।

Related posts

Leave a Comment