রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সংসদের যৌথ অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণকে বুধবার “অনুপ্রেরণাদায়ক, বিস্তৃত ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ” বলে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মতে, এই ভাষণ সাম্প্রতিক কালে ভারতের উন্নয়নযাত্রাকে যেমন প্রতিফলিত করেছে, তেমনই ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট দিশাও দেখিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী কংগ্রেস এই ভাষণকে আখ্যা দিয়েছে “পুনর্ব্যবহৃত আনুষ্ঠানিকতা” বলে, যেখানে “সত্য বা জবাবদিহির অভাব” রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের উপর রাষ্ট্রপতির জোর দেশের আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ার যৌথ আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, সংস্কার, উদ্ভাবন এবং সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি এই ভাষণে স্পষ্ট হয়েছে। কৃষক, যুবসমাজ, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথাও ভাষণে উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।তবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, প্রতিবছরই ইউনিয়ন ক্যাবিনেট রাষ্ট্রপতির ভাষণকে “একই দাবি বারবার তুলে ধরা এক ধরনের আনুষ্ঠানিকতা” হিসেবে অনুমোদন দেয়। তাঁর অভিযোগ, ‘বিকশিত ভারত’-এর স্লোগান যতই জোরে বলা হোক, তাতে কোনও স্পষ্ট লক্ষ্য, সময়সীমা বা পরিমাপযোগ্য ফলাফল নেই।খড়্গে আরও বলেন, উন্নয়নের কথা বললেও বর্তমান সরকার দরিদ্র-বিরোধী ও কর্পোরেটপন্থী নীতি অনুসরণ করে এমজিএনরেগার মতো কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পকে দুর্বল করেছে।
তাঁর প্রশ্ন, “যেখানে কোটি কোটি শ্রমিকের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হয়, সেখানে কেমন করে সেই ভারতকে ‘বিকশিত’ বলা যায়?”রাষ্ট্রপতির ভাষণে বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামিন) আইন বা VB-G RAM G Act-এর উল্লেখও বিতর্কের জন্ম দেয়। এই আইন এমজিএনরেগার পরিবর্তে আনার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সংসদে বিরোধী দলগুলি স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানায় এবং আইন প্রত্যাহারের দাবি তোলে।
