রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বক্তব্য চলাকালীন বিরোধী দলের সাংসদরা “Let LoP speak” স্লোগান তোলেন এবং একাধিক বিরোধী সাংসদ ওয়াকআউট করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে ডুবে থাকা দলগুলো কখনও দেশের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের কোনও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না বলেই দেশকে দীর্ঘদিন ভুগতে হয়েছে।
নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব সবসময় ভারতের মানুষকেই সমস্যা হিসেবে দেখেছে। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, দেশের জনসংখ্যাকেই নেহরু ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখেছিলেন।
এর বিপরীতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষকে সমস্যা নয়, বরং ১৪০ কোটি সমাধান হিসেবে দেখেন।
বিরোধীদের আরও আক্রমণ করে মোদি দাবি করেন, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম দলগুলি ক্ষমতায় থেকে শুধুমাত্র নিজেদের কোষাগার ভরেছে, সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই করেনি। কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কংগ্রেস কখনও গুরুত্ব দেয়নি, অথচ বর্তমান সরকার পিএম-কিষান যোজনার মাধ্যমে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করে কিছু দল আদিবাসীদের জমি ও কাজ কেড়ে নিতে সাহায্য করেছে। একইসঙ্গে বলেন, আগের সরকারের ভুল সংশোধন করতেই বর্তমান সরকারকে বিপুল পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ভবিষ্যৎমুখী নীতির ওপর জোর দিচ্ছে এবং ‘রিফর্ম, পারফর্ম, ট্রান্সফর্ম’ মন্ত্রে দেশ এগিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, ভারতের উচ্চ বৃদ্ধির হার ও কম মুদ্রাস্ফীতি বিশ্বে বিরল উদাহরণ।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মোদি বলেন, বিশ্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে ধীরে ধীরে ভারত উঠে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বড় বড় দেশ এখন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী।
