সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-এর দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য, আর পরীক্ষা হল নিজেকে যাচাই করার একটি উপায়। ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র নবম সংস্করণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি বলেন, নম্বর কখনও জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না, জীবনের সার্বিক ও সম্পূর্ণ বিকাশই আসল লক্ষ্য।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে CBSE বোর্ড পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। দিল্লিতে নিজের বাসভবনে ‘এক্সাম ওয়ারিয়র্স’-দের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। তিনি অভিভাবকদের পরামর্শ দেন, সন্তানদের নিজেদের ক্ষমতা, আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিকশিত হতে দিতে। বর্তমান প্রজন্মের সামনে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে যে বিপুল সুযোগ রয়েছে, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সময়ে এমন সুযোগ ছিল না, তাই আজকের যুবসমাজকে এআই ব্যবহারে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শুধু এআই দিয়ে জীবনী সংক্ষেপ করলে বিশেষ লাভ হয় না, বরং বয়স ও আগ্রহ অনুযায়ী বইয়ের পরামর্শ নিয়ে সেগুলি পড়লে প্রকৃত উন্নতি সম্ভব।
গেমিংকে পেশা হিসেবে নেওয়া নিয়ে এক পড়ুয়ার প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমে অভিভাবকরা দ্বিধায় থাকলেও সাফল্য এলে তারাই গর্ব অনুভব করেন। তিনি ভারতীয় গল্প, পঞ্চতন্ত্র বা পুরাণভিত্তিক বিষয় নিয়ে গেম তৈরি করার পরামর্শ দেন। গেমিংকে তিনি মনোযোগ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার দক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে জুয়ার মতো ক্ষতিকর প্রবণতা থেকে দূরে থাকার কথাও বলেন। পড়াশোনার চাপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কখনও বোঝা হওয়া উচিত নয়, বরং সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে গ্রহণ করতে হয়। নম্বরের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, টপারদের নাম খুব দ্রুতই সবাই ভুলে যায়, তাই জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
