দিল্লি—জাতীয় রাজধানীতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এল. মুরুগনের বাসভবনে আজ পঙ্গাল উদযাপনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠানে তিনি প্রার্থনা করেন এবং শুভ দিনে গরুকে খাদ্যও খাওয়ান। সমবেত অতিথিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঙ্গালের মতো উৎসব ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর ভাবনাকে আরও দৃঢ় করে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী পঙ্গালকে একটি বিশ্বজনীন উৎসব হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই উৎসব খাদ্যদাতাদের কঠোর পরিশ্রম এবং সমগ্র প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
তিনি বলেন, “আমাদের কৃষকরাই জাতি গঠনের শক্তিশালী অংশীদার। তাঁদের প্রচেষ্টাই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানকে আরও মজবুত করছে। কৃষকদের ক্ষমতায়নে কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নিরন্তর কাজ করে চলেছে।”
প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই পৃথিবী যখন আমাদের এত কিছু দেয়, তখন তাকে রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব। আগামী প্রজন্মের জন্য মাটির উর্বরতা বজায় রাখা, জল সংরক্ষণ করা এবং সম্পদের সুষম ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।”
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী গত এক বছরে তামিল সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, তামিলনাড়ুতে হাজার বছরের প্রাচীন গঙ্গাইকোন্ড চোলাপুরম মন্দিরে প্রার্থনা করা এবং রামেশ্বরমে পামবান সেতুর উদ্বোধনের সময় তামিল ইতিহাসের মহিমা প্রত্যক্ষ করার কথা। তাঁর কথায়, তামিল সংস্কৃতি শুধু ভারতেরই নয়, সমগ্র মানবজাতির যৌথ ঐতিহ্য।
তিনি আরও বলেন, তামিল সংস্কৃতিতে কৃষককে জীবনের ভিত্তি হিসেবে দেখা হয় এবং তিরুক্কুরালে কৃষি ও কৃষকদের গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তামিলনাড়ুতে প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ক এক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেন, যেখানে বহু তরুণ পেশাজীবী উচ্চপদস্থ চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তরুণ কৃষকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, টেকসই কৃষিতে বিপ্লব আনার এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন, যাতে থালা ভরা থাকে, পকেট ভরা থাকে এবং পৃথিবীও সুরক্ষিত থাকে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ‘ভণক্কম’ জানিয়ে দেশবাসীকে পঙ্গালের শুভেচ্ছা জানান। তিনি লেখেন, পঙ্গাল কৃষি, গ্রামীণ জীবন ও শ্রমের মর্যাদা উদযাপন করে, পরিবারকে কাছাকাছি আনে এবং সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে।
